প্রকাশিত: আগস্ট ১০, ২০২৬, ০৯:৪৯ এএম
শক্তিশালী টাইফুন ডলফিনের আঘাতে চীনের পূর্বাঞ্চলে ব্যাপক প্রস্তুতি ও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ঝড়ের ঝুঁকি এড়াতে অঞ্চলটির ১০ লাখের বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে দেশটির গুরুত্বপূর্ণ নগরী সাংহাইয়ের বাসিন্দারাও রয়েছেন।
রোববার সন্ধ্যায় ঘণ্টায় সর্বোচ্চ প্রায় ১৫০ কিলোমিটার গতির বাতাস নিয়ে ঝেজিয়াং প্রদেশের ইউহুয়ান এলাকায় আঘাত হানে টাইফুনটি। প্রায় এক ঘণ্টা পর ওয়েনঝৌ শহরের কাছাকাছি এলাকাতেও ঝড়টির প্রভাব পড়ে। শক্তিশালী বাতাস, ভারী বৃষ্টি ও উত্তাল সাগরের কারণে উপকূলীয় এলাকাগুলোতে ব্যাপক সতর্কতা জারি করা হয়।
ঝড়ের প্রভাবে পূর্ব চীনের স্বাভাবিক যোগাযোগব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। সাংহাইয়ে প্রায় এক হাজার ৪০০টি উড়োজাহাজের চলাচল বাতিল করা হয়েছে। ঝেজিয়াং ও ফুজিয়ান প্রদেশে দুই শতাধিক ফেরি চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। পাশাপাশি সমুদ্রভিত্তিক বিভিন্ন প্রকল্পের কাজ স্থগিত করা হয়েছে এবং নির্মাণকাজে ব্যবহৃত শত শত জাহাজকে নিরাপদ বন্দরে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
যাত্রীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে ক্ষতিগ্রস্ত কয়েকটি এলাকায় রেল চলাচলও বন্ধ রাখা হয়েছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ মানুষকে অপ্রয়োজনে ঘরের বাইরে না যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। ঝুঁকি কমাতে বেশ কয়েকটি পর্যটনকেন্দ্রও সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। সাংহাইয়ের জনপ্রিয় বিনোদনকেন্দ্রসহ বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানের কিছু অংশে প্রবেশ সীমিত করা হয়েছে।
চীনের আবহাওয়া কর্তৃপক্ষ ঝড়টির কারণে সর্বোচ্চ মাত্রার সতর্কতা জারি করেছিল। ঝেজিয়াং প্রদেশের মধ্য ও পূর্বাঞ্চলের কয়েকটি এলাকায় অতি ভারী বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা করা হয়েছে। পাশাপাশি সাংহাই, ফুজিয়ান, আনহুই ও জিয়াংসু প্রদেশের বিভিন্ন এলাকাতেও ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
সোমবার সকালে ডলফিনের শক্তি কিছুটা কমে তা ক্রান্তীয় ঝড়ে পরিণত হলেও বিপদ পুরোপুরি কাটেনি। ঝড়টি উত্তর-পশ্চিম দিকে এগিয়ে স্থলভাগের আরও ভেতরে প্রবেশ করতে থাকায় বুধবার পর্যন্ত বিভিন্ন এলাকায় ভারী বৃষ্টি, আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের আশঙ্কা রয়েছে।
এদিকে ঝড়টির প্রভাবে জাপান ও তাইওয়ানের বিভিন্ন এলাকাতেও যোগাযোগব্যবস্থা ব্যাহত হয়েছে। জাপানের ওকিনাওয়া দ্বীপে কয়েক হাজার পরিবার বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
চীনে ডলফিন আঘাত হানার মাত্র দুই সপ্তাহ আগে দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় গুয়াংডং প্রদেশে আরেকটি শক্তিশালী টাইফুন আঘাত হেনেছিল। ফলে পরপর শক্তিশালী ঝড়ের কারণে দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে নতুন করে দুর্যোগের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।



