প্রকাশিত: জুন ২৪, ২০২৬, ০৭:৩৯ পিএম
যশোরের ঝিকরগাছা এলাকায় একটি রাষ্ট্রীয় ব্যাংকের শাখাকে কেন্দ্র করে মুক্তিযোদ্ধার ভাতা আত্মসাতের গুরুতর অভিযোগ সামনে এসেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, বহু বছর আগে মারা যাওয়া এক মুক্তিযোদ্ধাকে নথিতে জীবিত দেখিয়ে তাঁর নামে নিয়মিত ভাতা উত্তোলন করা হয়েছে। একই ধরনের অভিযোগ উঠেছে আরেক মৃত ব্যক্তির পরিবারের ক্ষেত্রেও, যেখানে মৃত ব্যক্তির স্ত্রীকে জীবিত দেখিয়ে আর্থিক সুবিধা নেওয়ার তথ্য তদন্তে উঠে এসেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দীর্ঘ সময় ধরে চলা এই অনিয়মের ঘটনায় একজন ব্যাংক কর্মকর্তার নাম বারবার উঠে এলেও এখন পর্যন্ত তাঁর বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। বরং ঘটনাটির তদন্ত চলাকালে ব্যাংকের আরও অনেক কর্মকর্তা প্রশাসনিক জটিলতার মধ্যে পড়েছেন। কারও পদোন্নতি আটকে আছে, কেউ সাময়িক বরখাস্ত হয়েছেন, আবার কেউ কারণ দর্শানোর নোটিশের মুখোমুখি হয়েছেন।
তদন্তে জানা যায়, একাধিক ব্যক্তির স্বাক্ষর জাল করে ভাতা উত্তোলনের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় কয়েকজন স্থানীয় ব্যক্তির সম্পৃক্ততার বিষয়ও বিভিন্ন তদন্ত প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। উপজেলা প্রশাসন ও ব্যাংকের নিরীক্ষা সংশ্লিষ্ট একাধিক অনুসন্ধানে অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলেও অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে চূড়ান্ত ব্যবস্থা গ্রহণে দীর্ঘসূত্রতার অভিযোগ রয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা দাবি করেছেন, তাদের অজ্ঞাতসারে পুরোনো হিসাব ব্যবহার করে অর্থ উত্তোলন করা হয়েছে। তারা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। অন্যদিকে অভিযুক্ত কর্মকর্তা সব অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছেন, তাঁর বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে এবং প্রকৃত ঘটনার সঙ্গে তিনি জড়িত নন।
এ ঘটনায় ব্যাংকটির অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনা ও তদারকি প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে একাধিক তদন্ত সম্পন্ন হলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়ায় অনিশ্চয়তায় রয়েছেন অনেক কর্মকর্তা। একই সঙ্গে প্রকৃত অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনার দাবিও জোরালো হচ্ছে।
ব্যাংকের আঞ্চলিক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিষয়টি নিয়ে একাধিক অনুসন্ধান হয়েছে এবং প্রতিষ্ঠানের সুনাম রক্ষায় নিরপেক্ষভাবে সব অভিযোগ পর্যালোচনা করা হচ্ছে। অপরাধ প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।



