প্রকাশিত: জুলাই ৬, ২০২৬, ১০:৩৯ এএম
কক্সবাজারে টানা ভারী বর্ষণের কারণে পৃথক তিনটি পাহাড়ধসের ঘটনায় নারী-শিশুসহ মোট নয়জনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে আটজন রোহিঙ্গা এবং একজন স্থানীয় বাসিন্দা। গভীর রাত থেকে ভোর পর্যন্ত কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে ঘটে যাওয়া এসব দুর্ঘটনায় শোক নেমে এসেছে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে। দুর্যোগের কারণে পাহাড়ঘেঁষা বসতিগুলোতে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে এবং নতুন করে প্রাণহানির আশঙ্কাও দেখা দিয়েছে।
জানা গেছে, রাতের প্রথম দিকে উখিয়ার পালংখালী ইউনিয়নের জামতলী রোহিঙ্গা শিবিরে একটি পরিবারের বসতঘরের ওপর পাহাড়ের বিশাল অংশ ধসে পড়ে। এতে পরিবারের তিন সদস্য ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান। একই সময়ে অপর একটি রোহিঙ্গা শিবিরে পাহাড়ি ঢলের তীব্র স্রোতে এক শিশুর মৃত্যু হয়। পরে রাতের শেষ ভাগে বালুখালী এলাকার আরেকটি শিবিরে পাহাড়ধসে আরও চারজন নিহত হন। তাঁদের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছে। পরপর এসব দুর্ঘটনায় শিবিরজুড়ে শোক ও উৎকণ্ঠার পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।
এদিকে ভোরের দিকে কক্সবাজার শহরের ছাত্তার ঘোনা এলাকায় আরেকটি পাহাড়ধসের ঘটনায় আলী আকবর নামে এক ব্যক্তি গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা দ্রুত তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলেও চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। একই পরিবারের আরও কয়েকজনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।
আবহাওয়া বিশেষজ্ঞদের মতে, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট সুস্পষ্ট লঘুচাপ এবং সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে কক্সবাজারসহ উপকূলীয় অঞ্চলে ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে। গত চব্বিশ ঘণ্টায় জেলায় প্রায় আড়াই শত মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আগামী দুই দিনও ভারী বর্ষণ অব্যাহত থাকতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।
স্থানীয় প্রশাসন পাহাড়ের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। বিশেষ করে পাহাড়ঘেঁষা রোহিঙ্গা শিবিরগুলোতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। উদ্ধারকারী দল সম্ভাব্য ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে। টানা বৃষ্টির কারণে নতুন করে পাহাড়ধসের আশঙ্কা থাকায় সবাইকে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।



