প্রকাশিত: জুলাই ১৩, ২০২৬, ১০:৩১ এএম
কক্সবাজার শহর ও আশপাশের পাহাড়গুলোতে অবৈধ বসতির কারণে ভয়াবহ ঝুঁকির মধ্যে বসবাস করছেন কয়েক লাখ মানুষ। জেলার ৫১টি পাহাড়ে প্রায় ২২ হাজার অবৈধ ঘরবাড়ি গড়ে উঠেছে বলে জানা গেছে। প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে এসব এলাকায় পাহাড়ধসের আশঙ্কা বাড়লেও স্থায়ীভাবে এই সমস্যা সমাধান করা যাচ্ছে না।
চলতি সপ্তাহের টানা ভারী বৃষ্টির কারণে কক্সবাজারের বিভিন্ন এলাকায় পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ২২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে নারী, শিশু ও শিক্ষার্থীরাও রয়েছে। ভারী বৃষ্টির সময় পাহাড়ের মাটি নরম হয়ে যাওয়ায় এসব এলাকায় বসবাসকারী মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, বৃষ্টির সময় পাহাড়ে ফাটল ধরার শব্দ তাদের জন্য বড় ধরনের সতর্কবার্তা হয়ে আসে। ঝুঁকি সম্পর্কে জানার পরও অনেক পরিবার পাহাড় ছেড়ে যেতে পারছে না। কারণ বিকল্প বাসস্থানের অভাব এবং আর্থিক সংকটের কারণে তারা বাধ্য হয়ে এসব ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাস করছে।
পরিবেশ সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, ২০০৮ সাল থেকে ২০২৬ সালের ৮ জুলাই পর্যন্ত প্রায় ১৮ বছরে কক্সবাজারে পাহাড়ধসে ৩১২ জনের প্রাণহানি হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষ রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর সদস্য। সবচেয়ে ভয়াবহ পাহাড়ধসের ঘটনাগুলোর একটি ঘটে ২০১০ সালে, যখন একদিনেই ৬২ জনের মৃত্যু হয়।
স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার কার্যক্রম চলছে। তবে পুনর্বাসনের স্থায়ী ব্যবস্থা না থাকায় বারবার একই এলাকায় মানুষ ফিরে আসছে। গত কয়েক দিনে কয়েক হাজার মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে নেওয়া হয়েছে।
পরিবেশবাদীদের অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রভাব ও ভূমিদস্যু চক্রের কারণে পাহাড় কাটা এবং অবৈধ বসতি নির্মাণ বন্ধ করা যাচ্ছে না। দরিদ্র ও অসহায় মানুষের দুর্বলতাকে কাজে লাগিয়ে একটি চক্র পাহাড় দখল করে বসতি তৈরি করছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
কক্সবাজার পৌর এলাকার কয়েকটি পাহাড়ে দেখা গেছে, পাহাড়ের ঢাল, চূড়া ও পাদদেশে ঘনবসতি গড়ে উঠেছে। অনেক জায়গায় এখনো নতুন করে পাহাড় কেটে ঘর নির্মাণের কাজ চলছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পাহাড় কেটে বসতি নির্মাণের ফলে শুধু প্রাণহানির ঝুঁকিই বাড়ছে না, পরিবেশের ভারসাম্যও নষ্ট হচ্ছে। পাহাড়ের গাছপালা ধ্বংস হওয়ায় মাটির স্থিতিশীলতা কমে যাচ্ছে এবং বৃষ্টির পানি ধরে রাখার ক্ষমতা হ্রাস পাচ্ছে। এর ফলে পাহাড়ধসের পাশাপাশি শহরের জলাবদ্ধতার সমস্যাও বাড়ছে।
পাহাড় রক্ষায় দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, অবৈধ দখল বন্ধ এবং ঝুঁকিতে থাকা মানুষদের নিরাপদ পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।



