রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

বন্যার পানিতে দুর্ভোগে দেড় লাখের বেশি পরিবার

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: জুলাই ১৪, ২০২৬, ১২:৩১ পিএম

বন্যার পানিতে দুর্ভোগে দেড় লাখের বেশি পরিবার

ছবি: সংগৃহীত

দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বন্যা ও পাহাড়ধসের ভয়াবহতায় এখন পর্যন্ত ৫৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ৩৯ জন। টানা বৃষ্টি, পাহাড়ি ঢল ও ভূমিধসে চট্টগ্রাম বিভাগের কয়েকটি জেলা এবং আশপাশের এলাকায় দুর্ভোগ ক্রমেই বাড়ছে।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশের সাত জেলার এক লাখ ৫৫ হাজার ৩১১টি পরিবার বর্তমানে পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছে। বন্যার কারণে নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ছয় লাখ নয় হাজার ৪১১ জন মানুষ।

ক্ষতিগ্রস্ত জেলাগুলোর মধ্যে রয়েছে খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি, বান্দরবান, কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ। এসব জেলার ৫৯টি উপজেলা বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়েছে। পাশাপাশি ৩৩৪টি ইউনিয়ন ও ১২টি পৌর এলাকার মানুষ দুর্ভোগে পড়েছেন।

জেলা ভিত্তিক হিসাবে দেখা গেছে, বন্যা ও পাহাড়ধসে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটেছে কক্সবাজারে। সেখানে ৩১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া চট্টগ্রামে ১৩ জন, বান্দরবানে ছয়জন, রাঙামাটিতে তিনজন এবং মৌলভীবাজারে একজন মারা গেছেন।

আহতদের মধ্যেও সবচেয়ে বেশি সংখ্যা কক্সবাজারে। সেখানে ২৪ জন আহত হয়েছেন। চট্টগ্রামে ১২ জন, বান্দরবানে দুইজন এবং খাগড়াছড়িতে একজন আহত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে।

দুর্যোগকবলিত মানুষের নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য সরকার এক হাজার ৪২টি আশ্রয়কেন্দ্র চালু করেছে। এসব আশ্রয়কেন্দ্রে এরই মধ্যে ৩৮ হাজার ৪২২ জন মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন। দুর্গত এলাকায় খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি ও চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন সরকারি সংস্থা কাজ করছে।

এদিকে বন্যাকবলিত জেলাগুলোতে স্বাস্থ্যসেবা স্বাভাবিক রাখতে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত ১১ জেলার চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রতিটি ক্ষতিগ্রস্ত উপজেলায় চিকিৎসা দল মোতায়েন করা হয়েছে।

স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দুর্গত এলাকায় প্রয়োজনীয় ওষুধ, খাবার স্যালাইন, সাপের কামড়ের প্রতিষেধকসহ জরুরি চিকিৎসাসামগ্রী সরবরাহ করা হচ্ছে। চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, বান্দরবান, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি, ফেনী, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর, কুমিল্লা ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বিশেষ স্বাস্থ্য কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

দুর্গত এলাকার স্বাস্থ্য পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে প্রতিটি জেলায় একজন করে জ্যেষ্ঠ চিকিৎসককে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি কেন্দ্রীয়ভাবে তথ্য সংগ্রহ ও প্রয়োজনীয় সমন্বয়ের কাজ অব্যাহত রয়েছে।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!