প্রকাশিত: জুলাই ১৬, ২০২৬, ০৮:৪০ পিএম
নোয়াখালীর কবিরহাট উপজেলায় মাদকসেবনের প্রতিবাদকে কেন্দ্র করে এক বিএনপি নেতাকে ছুরিকাঘাতে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে স্থানীয় জনতা অভিযুক্ত দুই যুবককে আটক করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে তুলে দেয়।
নিহত ব্যক্তি উপজেলার সুন্দলপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা এবং স্থানীয়ভাবে পরিচিত ব্যবসায়ী ও বিএনপির সাবেক নেতা ছিলেন। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি এলাকায় মাদকসেবন ও অসামাজিক কর্মকাণ্ড নিয়ে একাধিকবার প্রতিবাদ করেছিলেন তিনি। এ নিয়ে কয়েকজন যুবকের সঙ্গে তার বিরোধ সৃষ্টি হয়।
স্বজনদের অভিযোগ, ঘটনার আগের দিন স্থানীয় একটি বাজারে মাদকসেবন নিয়ে কথাকাটাকাটির ঘটনা ঘটে। সেই সময় নিহত ব্যক্তি অভিযুক্তদের আচরণের প্রতিবাদ করেন। এরপর থেকেই তাকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখানো হয় এবং প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়েছিল বলে পরিবারের দাবি।
পরদিন রাতে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে বাড়ি ফেরার পথে তার ওপর হামলা চালানো হয়। ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্যত্র নেওয়ার পথে তিনি মারা যান।
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকাবাসী ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। একপর্যায়ে সন্দেহভাজন দুই যুবককে আটক করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়। বর্তমানে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিক তদন্তে মাদকসেবনকে কেন্দ্র করে বিরোধের বিষয়টি সামনে এসেছে। নিহতের পরিবারের দায়ের করা মামলার ভিত্তিতে ঘটনার বিস্তারিত অনুসন্ধান করা হচ্ছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
স্থানীয়দের মতে, এলাকায় মাদকের বিস্তার দীর্ঘদিন ধরেই উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তারা দ্রুত তদন্ত শেষ করে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে মাদক নিয়ন্ত্রণে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সচেতন মহল।
এই ঘটনার পর পুরো এলাকায় শোকের পাশাপাশি ক্ষোভও বিরাজ করছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।



