প্রকাশিত: আগস্ট ১৮, ২০২৬, ১২:৫১ পিএম
নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে মাত্র ১৪ দিন বয়সী এক নবজাতককে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের প্লাস্টিকের ড্রামে ফেলে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার মায়ের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় শিশুটির মা ফাতেমা বেগমকে আটক করেছে পুলিশ। মর্মান্তিক ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
সোমবার (১৭ আগস্ট) রাতের দিকে উপজেলার মিরওয়ারিশপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মজুমদারহাট এলাকার একটি বাড়িতে ঘটনাটি ঘটে। নিহত শিশুটি ওই এলাকার সৌরভ হোসেন ও ফাতেমা বেগম দম্পতির ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার সন্ধ্যার পর পরিবারের সদস্যরা দেখতে পান নবজাতকটি ঘরে নেই। শিশুটিকে বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি শুরু করা হয়। একপর্যায়ে পরিবারের সদস্যরা শিশুটির মাকে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করেন। তখন তিনি একেক সময় একেক ধরনের বক্তব্য দেন। প্রথমে অজ্ঞাত ব্যক্তিরা শিশুটিকে নিয়ে গেছে বলে দাবি করেন। পরে আবার অস্বাভাবিক আরেকটি দাবি করেন। এতে পরিবারের সদস্যদের সন্দেহ আরও বাড়ে।
পরে বাড়ির ভেতরে তল্লাশি চালানোর সময় বৃষ্টির পানি রাখার একটি প্লাস্টিকের ড্রামের ভেতর নবজাতকের মরদেহ পাওয়া যায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে এবং শিশুটির মাকে আটক করে।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, জিজ্ঞাসাবাদের সময় ফাতেমা সন্তানকে পানিভর্তি ড্রামে ফেলে দেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন বলে দাবি করা হয়েছে। শিশুটির অতিরিক্ত কান্নাকাটি ও রাতে ঘুমাতে না দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে তিনি বিরক্ত ছিলেন বলেও প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে উঠে এসেছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
স্থানীয়দের কাছ থেকে আরও জানা যায়, সৌরভ ও ফাতেমার বিয়ে হয় ২০২৫ সালে। প্রেমের সম্পর্কের পর তাদের বিয়ে হলেও দাম্পত্য জীবনে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কলহ চলছিল বলে স্থানীয়দের দাবি। তবে এই পারিবারিক বিরোধের সঙ্গে শিশুটির মৃত্যুর কোনো সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হবে।
বেগমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শামসুজ্জামান জানান, নবজাতককে পানিতে ফেলে হত্যার অভিযোগে তার মাকে আটক করা হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে। তদন্তের পর ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের বিষয়ে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শিশুটির মৃত্যুর ঘটনায় পরিবার ও স্থানীয়দের মধ্যে শোকের পাশাপাশি ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। এত অল্প বয়সী একটি শিশুর এমন মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত এবং দায়ী ব্যক্তির বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।



