প্রকাশিত: জুলাই ১৭, ২০২৬, ১০:৪৪ এএম
টানা কয়েক দিনের বৃষ্টিতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে কৃষিজমি ও যোগাযোগব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় রাজধানীর কাঁচাবাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামে নতুন করে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে সবজির সরবরাহ কমে যাওয়ায় অধিকাংশ সবজির দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। পাশাপাশি চাল ও মুরগির দামও বেড়েছে, ফলে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষের সংসারের ব্যয় আরও বেড়ে গেছে।
শুক্রবার রাজধানীর বিভিন্ন কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা যায়, কয়েক দিন আগের তুলনায় অনেক সবজির দাম কেজিপ্রতি ২০ থেকে ৪০ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। সবচেয়ে বেশি বেড়েছে কাঁচামরিচের দাম। এছাড়া বেগুন, করলা, পটল, ঢেঁড়স, ঝিঙা, চিচিঙ্গা, শসা ও লাউসহ বেশিরভাগ সবজিই আগের তুলনায় বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে।
ব্যবসায়ীরা জানান, দেশের বিভিন্ন এলাকায় টানা বৃষ্টির কারণে সবজির ক্ষেত পানিতে তলিয়ে গেছে। অনেক ক্ষেতেই ফসল নষ্ট হয়েছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন জেলা থেকে রাজধানীতে পণ্যবাহী যানবাহন সময়মতো পৌঁছাতে না পারায় বাজারে সরবরাহ কমে গেছে। চাহিদার তুলনায় জোগান কম থাকায় স্বাভাবিকভাবেই দাম বেড়েছে।
তবে ক্রেতাদের অভিযোগ, প্রকৃত সরবরাহ সংকটের পাশাপাশি কিছু অসাধু ব্যবসায়ীও পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে অতিরিক্ত দাম আদায় করছেন। তাঁদের দাবি, একই দিনে এক বাজার থেকে অন্য বাজারে একই পণ্যের দামে বড় ধরনের পার্থক্য দেখা যাচ্ছে, যা অস্বাভাবিক।
বর্তমানে রাজধানীর বাজারে বেগুন প্রতি কেজি ৯০ থেকে ১২০ টাকা, করলা ৮০ থেকে ১০০ টাকা, পটল ও ঢেঁড়স ৭০ থেকে ৮০ টাকা, ঝিঙা ৮০ থেকে ৯০ টাকা, চিচিঙ্গা ৭০ থেকে ৮০ টাকা এবং শসা ১২০ থেকে ১৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এক সপ্তাহ আগেও এসব পণ্যের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কম ছিল। লাউ, যা আগে ৬০ টাকায় পাওয়া যেত, এখন বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ৯০ টাকায়।
সবচেয়ে বেশি মূল্যবৃদ্ধি হয়েছে কাঁচামরিচে। সপ্তাহখানেক আগে প্রতি কেজি কাঁচামরিচ ৮০ থেকে ১৪০ টাকার মধ্যে বিক্রি হলেও বর্তমানে তা বেড়ে ১৬০ থেকে ১৮০ টাকায় পৌঁছেছে। তবে পেঁপের দাম তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল রয়েছে এবং প্রতি কেজি ৩০ থেকে ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
সবজির পাশাপাশি চালের বাজারেও ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। সরু ও মোটা—উভয় ধরনের চালের দাম কিছুটা বেড়েছে। যদিও মাঝারি মানের চালের দামে তেমন পরিবর্তন দেখা যায়নি। এদিকে দেশি রসুনের দামও কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে স্বস্তির খবর হলো, পেঁয়াজের দাম কেজিপ্রতি প্রায় ৫ টাকা কমেছে।
প্রোটিনের অন্যতম সহজলভ্য উৎস ব্রয়লার মুরগির দামও বেড়েছে। বর্তমানে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ১৮০ থেকে ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা আগের তুলনায় প্রায় ১০ টাকা বেশি। ব্যবসায়ীদের মতে, বৈরী আবহাওয়ার কারণে খামার থেকে পর্যাপ্ত সরবরাহ না আসায় এই মূল্যবৃদ্ধি হয়েছে। অন্যদিকে সোনালি মুরগির দামও উচ্চ অবস্থানে রয়েছে।
ডিমের বাজারে কিছুটা স্বস্তি মিলেছে। খামারের বাদামি ডিমের প্রতি হালির দাম আগের তুলনায় প্রায় ৫ টাকা কমে ৪০ থেকে ৪৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, আবহাওয়া অনুকূলে ফিরলে এবং সরবরাহ স্বাভাবিক হলে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম ধীরে ধীরে স্থিতিশীল হতে পারে। তবে পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে বাজারে মূল্যচাপ আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।



