রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

সুনামগঞ্জে বাড়ছে নদীর পানি, নজরদারিতে প্রশাসন

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: জুলাই ১৮, ২০২৬, ০১:১৮ পিএম

সুনামগঞ্জে বাড়ছে নদীর পানি, নজরদারিতে প্রশাসন

ফাইল ছবি

টানা বর্ষণ এবং উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে সুনামগঞ্জের বিভিন্ন নদ-নদীর পানির স্তর ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। তবে সর্বশেষ পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী জেলার কোনো নদী এখনো বিপৎসীমা অতিক্রম করেনি। তবুও পরিস্থিতি বিবেচনায় স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট দপ্তর সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এবং সম্ভাব্য যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুতি জোরদার করেছে।

শনিবার সকাল পর্যন্ত সংগ্রহ করা তথ্য অনুযায়ী, জেলার গুরুত্বপূর্ণ নদীগুলোর পানির উচ্চতা আগের দিনের তুলনায় বৃদ্ধি পেয়েছে। ছাতক এলাকায় সুরমা নদীর পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি পৌঁছালেও এখনো নির্ধারিত সীমার নিচেই রয়েছে। একইভাবে সুনামগঞ্জ সদর এলাকায়ও সুরমা নদীর পানি বৃদ্ধি পেলেও তা বিপৎসীমা অতিক্রম করেনি। যাদুকাটা ও কালনী নদীর পানিও ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে, তবে এসব নদীর অবস্থাও এখনো ঝুঁকিপূর্ণ পর্যায়ে পৌঁছায়নি।

অন্যদিকে জেলার বিভিন্ন স্থানে গত এক দিনে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। সবচেয়ে বেশি বৃষ্টি হয়েছে ছাতক এলাকায়। এছাড়া লাউড়েরগড়, সুনামগঞ্জ সদর এবং দিরাইয়েও মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাত হয়েছে। টানা বৃষ্টির পাশাপাশি উজানের ঢল অব্যাহত থাকায় নদীগুলোর পানি আরও বাড়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বর্তমানে পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। নদীর পানি যদি একই হারে বাড়তে থাকে, তাহলে নিম্নাঞ্চলের কিছু এলাকায় জলাবদ্ধতা বা স্থানীয়ভাবে পানি প্রবেশের আশঙ্কা তৈরি হতে পারে। এ কারণে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে আগাম প্রস্তুতি গ্রহণের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকেই জানান, গত কয়েক দিনের বৃষ্টিতে নিচু এলাকার খাল-বিল ও জলাশয়গুলো প্রায় পূর্ণ হয়ে গেছে। নদীর পানি আরও বৃদ্ধি পেলে কৃষিজমি এবং বসতবাড়িতে পানি প্রবেশের আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে নদীতীরবর্তী মানুষ পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে রয়েছেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, উজানে ভারী বর্ষণ অব্যাহত থাকলে আগামী কয়েক দিন নদ-নদীর পানির স্তর আরও বৃদ্ধি পেতে পারে। তাই স্থানীয় জনগণকে সতর্ক থাকার পাশাপাশি প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও মানবিক সহায়তা প্রস্তুত রাখার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট দপ্তর জানিয়েছে, নদীর পানির গতিবিধি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং পরিস্থিতির পরিবর্তন হলে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!