প্রকাশিত: জুলাই ২০, ২০২৬, ০৪:৩৫ পিএম
দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় বন্যা পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। উজান থেকে নেমে আসা ঢল এবং টানা ভারী বৃষ্টির প্রভাবে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নদীর পানি ইতোমধ্যে বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে। একই সঙ্গে আগামী কয়েক দিনে দেশের উত্তর, উত্তর-পূর্ব ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা থাকায় স্বল্পমেয়াদি বন্যার ঝুঁকি আরও বেড়েছে।
সর্বশেষ পূর্বাভাস অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের তিনটি নদীর চারটি পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে পানি বিপৎসীমার ওপরে প্রবাহিত হচ্ছে। এর মধ্যে কুশিয়ারা নদীর ফেঞ্চুগঞ্জ ও মারকুলি, সুরমা নদীর ছাতক এবং সোমেশ্বরী নদীর কলমাকান্দা এলাকায় নদীর পানি বিপৎসীমা ছাড়িয়ে গেছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে এসব নদীর পানি আরও বাড়তে পারে, ফলে নিম্নাঞ্চলে নতুন এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এদিকে তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানিও ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এতে লালমনিরহাট, নীলফামারী, রংপুর, গাইবান্ধা ও কুড়িগ্রামের নদীতীরবর্তী নিচু এলাকাগুলোতে আকস্মিক বা স্বল্পমেয়াদি বন্যা দেখা দিতে পারে। স্থানীয় প্রশাসনকে পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সিলেট ও সুনামগঞ্জ অঞ্চলেও উদ্বেগ বাড়ছে। সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর পানি আবারও বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আগামী এক থেকে দুই দিনের মধ্যে এসব এলাকার কিছু স্থানে নদীর পানি পুনরায় বিপৎসীমা অতিক্রম করে চলমান বন্যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।
এ ছাড়া সারিগোয়াইন, যাদুকাটা, জিঞ্জিরাম, সোমেশ্বরী, ভুগাই ও কংস নদীর পানিও ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে। ফলে শেরপুর, ময়মনসিংহ, নেত্রকোণা, সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলার কয়েকটি নিম্নাঞ্চলে নতুন করে পানি প্রবেশ অথবা বিদ্যমান জলাবদ্ধতা ও বন্যা পরিস্থিতির অবনতি ঘটার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
অন্যদিকে ব্রহ্মপুত্র-যমুনা অববাহিকায়ও পানি বাড়ছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, জামালপুর, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ ও টাঙ্গাইল জেলার নদীতীরবর্তী নিচু এলাকাগুলো প্লাবিত হতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। উত্তরাঞ্চলের আত্রাই, ছোট যমুনা, টাঙ্গন, পুনর্ভবা, মহানন্দা ও ঘাঘট নদীর পানিও বাড়ছে। এতে নওগাঁ ও নাটোর জেলার কিছু এলাকায় সাময়িক বন্যার আশঙ্কা রয়েছে।
চট্টগ্রাম অঞ্চলের সাঙ্গু, হালদা ও মাতামুহুরী নদীর পানিও দ্রুত বৃদ্ধি পেতে পারে বলে জানানো হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নদীতীরবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে।



