রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

জ্বালানির দাম বাড়ার গুজবে মধ্যরাতে পাম্পে উপচে পড়া ভিড়

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: জুলাই ২৩, ২০২৬, ০৯:২৩ এএম

জ্বালানির দাম বাড়ার গুজবে মধ্যরাতে পাম্পে উপচে পড়া ভিড়

ফাইল ছবি

জ্বালানির দাম বৃদ্ধি এবং সম্ভাব্য সরবরাহ সংকটের গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ার পর দিনাজপুর শহরের বিভিন্ন জ্বালানি বিক্রয়কেন্দ্রে হঠাৎ করেই গ্রাহকদের অস্বাভাবিক ভিড় দেখা গেছে। গভীর রাত পর্যন্ত মোটরসাইকেল, ব্যক্তিগত যানবাহন ও অন্যান্য পরিবহনের দীর্ঘ সারি চোখে পড়ে। সম্ভাব্য মূল্যবৃদ্ধির আগে ট্যাংক পূর্ণ করে রাখার উদ্দেশ্যে অনেকেই একযোগে জ্বালানি সংগ্রহে ছুটে আসেন। এতে স্বাভাবিক বিক্রয় কার্যক্রমে চাপ সৃষ্টি হওয়ার পাশাপাশি সাধারণ গ্রাহকদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়েছে।

মঙ্গলবার গভীর রাতে শহরের হাউজিং মোড় এলাকার একটি জ্বালানি বিক্রয়কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, সারিবদ্ধভাবে অসংখ্য মোটরসাইকেল ও বিভিন্ন যানবাহন অপেক্ষা করছে। কেউ পূর্ণ পরিমাণ জ্বালানি নিচ্ছেন, আবার কেউ অতিরিক্ত সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে আলাদা পাত্রেও জ্বালানি নেওয়ার চেষ্টা করছেন। হঠাৎ বাড়তি চাপ সামাল দিতে বিক্রয়কেন্দ্রের কর্মীদেরও অতিরিক্ত ব্যস্ততা দেখা যায়।

জ্বালানি বিক্রয়কেন্দ্রের দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা জানান, মূল্যবৃদ্ধি কিংবা সরবরাহ কমে যাওয়ার বিষয়ে তাদের কাছে সরকারি বা সংশ্লিষ্ট কোনো দপ্তর থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো নির্দেশনা পৌঁছায়নি। তারা নিয়মিতভাবে স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় জ্বালানি সরবরাহ করছেন এবং মজুদেও কোনো ঘাটতি নেই। তাদের ধারণা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন গুঞ্জনের কারণেই একসঙ্গে এত মানুষের উপস্থিতি তৈরি হয়েছে।

জ্বালানি নিতে আসা কয়েকজন গ্রাহক জানান, বিভিন্ন অনলাইন মাধ্যমে সম্ভাব্য মূল্যবৃদ্ধি ও সংকটের খবর দেখে তারা আগাম প্রস্তুতি হিসেবে জ্বালানি সংগ্রহ করতে এসেছেন। তবে তারা স্বীকার করেন, এসব তথ্যের সত্যতা সম্পর্কে তাদের কাছে নিশ্চিত কোনো প্রমাণ নেই। তবুও ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তার কথা ভেবে তারা আগে থেকেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে চেয়েছেন।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, কোনো পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি বা সংকটের গুজব দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। ফলে প্রয়োজনের অতিরিক্ত পণ্য সংগ্রহের প্রবণতা দেখা দেয়, যা অনেক সময় কৃত্রিম সংকট তৈরি করে এবং বাজারে অস্থিরতা বাড়ায়। এতে প্রকৃত প্রয়োজনের সময় অনেক ভোক্তা পণ্য পেতে সমস্যায় পড়েন।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এমন পরিস্থিতি এড়াতে দ্রুত সরকারি পর্যায় থেকে স্পষ্ট বক্তব্য দেওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে গুজব ছড়ানো রোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ এবং নির্ভরযোগ্য তথ্য দ্রুত জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়া জরুরি। এতে অযথা আতঙ্ক কমবে এবং বাজারে স্বাভাবিক পরিস্থিতি বজায় থাকবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, যাচাই-বাছাই ছাড়া কোনো তথ্য বিশ্বাস করে অপ্রয়োজনীয়ভাবে পণ্য মজুত করার প্রবণতা শুধু ব্যক্তিগত ভোগান্তিই বাড়ায় না, সামগ্রিক বাজার ব্যবস্থাকেও অস্থিতিশীল করে তোলে। তাই গুজবে কান না দিয়ে দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার ওপর নির্ভর করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!