প্রকাশিত: আগস্ট ২৭, ২০২৬, ০৮:২০ পিএম
দেশের চলমান জ্বালানি সংকট, বিদ্যুৎ ঘাটতি ও লোডশেডিং নিয়ে জাতীয় সংসদে সরকারের সমালোচনা করেছেন স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা। একই সঙ্গে গ্যাস ও বিদ্যুতের অনিশ্চিত সরবরাহের কারণে শিল্পকারখানা ও কর্মসংস্থানের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে বলেও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি।
বৃহস্পতিবার ২৭ আগস্ট জাতীয় সংসদে ৭১ বিধিতে দেওয়া বক্তব্যে রুমিন ফারহানা জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন তুলে ধরেন। গ্যাস ও বিদ্যুতের সরবরাহের অনিশ্চয়তা বোঝাতে তিনি ব্যঙ্গাত্মকভাবে বলেন, ‘‘টুকু আসে, টুকু যায়। এই আসে, এই যায়। কতক্ষণ থাকে, তারা নাকি বুঝতে পারে না।’’
রুমিন ফারহানা বলেন, একদিকে দেশে তেলের দাম বাড়ছে, অন্যদিকে বিদ্যুতের জন্য মানুষের ভোগান্তি বাড়ছে এবং অনেক এলাকায় প্রয়োজন অনুযায়ী গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না। এমন পরিস্থিতিতে শিল্প ও ব্যবসা-বাণিজ্য কীভাবে স্বাভাবিক থাকবে, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি।
তিনি দাবি করেন, নির্বাচনের সময় সরকার এক কোটি নতুন কর্মসংস্থান তৈরির প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। কিন্তু সরকার ক্ষমতায় আসার ছয় মাসের মধ্যেই ৬২ হাজার মানুষ চাকরি হারিয়েছেন এবং নয় শতাধিক কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। এমন বাস্তবতায় নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি তো দূরের কথা, বর্তমানে কর্মরত মানুষের চাকরির নিরাপত্তা নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সংসদ সদস্য আরও বলেন, সরকারের ঘোষিত ১৮০ দিনের অগ্রাধিকারের মধ্যে আইনশৃঙ্খলার উন্নতি, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ এবং জ্বালানি খাতের নিশ্চয়তা অন্যতম। কিন্তু এসব ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা অনুযায়ী পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি বলে তিনি দাবি করেন।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও বক্তব্য দেন রুমিন। এ সময় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ থাকলেও বিষয়গুলো অনেক সময় বক্তব্য ও ব্যঙ্গের মাধ্যমে এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হয়।
এ ছাড়া বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির বিষয়টিও সংসদে তুলে ধরেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, বর্তমানে অনেক সবজির দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে গেছে। ডিম ও চালের দামও বেড়েছে। বিশেষ করে মিনিকেট চালের মূল্যবৃদ্ধিতে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের ওপর চাপ বাড়ছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
সরকারি কম দামের পণ্য বিক্রির কেন্দ্রগুলোতে দীর্ঘ মানুষের সারির কথাও তুলে ধরেন রুমিন ফারহানা। তাঁর বক্তব্যে জ্বালানি সংকট, কর্মসংস্থান, শিল্প উৎপাদন ও দ্রব্যমূল্য—এই চারটি বিষয়ে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের চিত্র উঠে আসে।



