প্রকাশিত: জুলাই ২৩, ২০২৬, ১১:৫০ এএম
বগুড়া সদর উপজেলায় পূর্বের বিরোধকে কেন্দ্র করে আতিকুর রহমান সাগর মণ্ডল (২৬) নামে এক সাবেক ছাত্রদল নেতাকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার সন্দেহে শাপলা নামে এক নারীকে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে। ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং হামলার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত শুরু করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
বুধবার দিবাগত রাত প্রায় আড়াইটার দিকে সদর উপজেলার চালিতাবাড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত সাগর মণ্ডল শাখারিয়া ইউনিয়নের পাঁচবারিয়া গ্রামের শাহাদাত মণ্ডলের ছেলে। তিনি শাখারিয়া ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরে প্রতিবেশীদের সঙ্গে তাদের বিরোধ চলছিল। ঘটনার রাতে পরিবারের সদস্যরা ঘরের ভেতরে খাবার খাচ্ছিলেন। এ সময় সাগর বাড়ির উঠানে অবস্থান করছিলেন। হঠাৎ বাইরে চিৎকার-চেঁচামেচি শুরু হলে পরিবারের লোকজন বেরিয়ে আসেন। অভিযোগ রয়েছে, তখন সংঘবদ্ধ একদল ব্যক্তি টিনের গেট ভেঙে বাড়িতে ঢুকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে সাগরের ওপর হামলা চালায়।
প্রাণ বাঁচাতে তিনি দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করলেও কিছু দূর গিয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে স্বজন ও স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের স্ত্রী মারজিয়া খাতুন অভিযোগ করেন, স্বামীকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে হামলাকারীরা তাকেও ভয়ভীতি দেখায়। আহত সাগরকে হাসপাতালে নেওয়ার সময়ও দুর্বৃত্তরা তাদের অনুসরণ করে আতঙ্ক সৃষ্টি করে। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলেও অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়।
নিহতের মা সাজেদা বেগম বলেন, তার ছেলেকে অত্যন্ত নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। তিনি এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
পুলিশ জানায়, খবর পাওয়ার পরপরই ঘটনাস্থলে সদস্যরা পৌঁছে তদন্ত শুরু করেন। প্রাথমিকভাবে পূর্ব শত্রুতার জেরেই এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সন্দেহভাজন হিসেবে এক নারীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
পুলিশ আরও জানিয়েছে, নিহত সাগর মণ্ডলের বিরুদ্ধে পূর্বে মারামারি, মাদক এবং অস্ত্রসংক্রান্ত অভিযোগে মোট ছয়টি মামলা ছিল। তবে বর্তমান হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে সব দিক বিবেচনায় নিয়ে তদন্ত চলছে।



