প্রকাশিত: জুলাই ৩০, ২০২৬, ১০:০৭ এএম
রাজধানীর মহাখালী এলাকার দীর্ঘদিনের যানজট নিরসনের লক্ষ্য নিয়ে পূর্বাচলে নতুন বাস ডিপো চালু করা হলেও এখনো প্রত্যাশিত সুফল মিলছে না। উদ্বোধনের প্রায় দুই সপ্তাহ পার হলেও অধিকাংশ দূরপাল্লার যাত্রীবাহী বাস আগের নিয়মেই চলাচল করছে। ফলে মহাখালী বাস টার্মিনালে বাসের অপ্রয়োজনীয় অবস্থান কমেনি এবং যানজটও আগের মতোই রয়ে গেছে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ঢাকায় আসা দূরপাল্লার বাসগুলো নির্ধারিত সময়ের কয়েক ঘণ্টা আগে পূর্বাচলের ডিপোতে অবস্থান করবে। পরে নির্ধারিত ক্রম অনুযায়ী মহাখালী টার্মিনালে গিয়ে যাত্রী নিয়ে গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার কথা। এতে মহাখালী এলাকায় বাসের অতিরিক্ত চাপ কমে যান চলাচল স্বাভাবিক হওয়ার আশা করা হয়েছিল।
তবে সরেজমিনে দেখা গেছে, বিশাল আয়তনের ডিপোতে হাতে গোনা কয়েকটি বাস রাখা হয়েছে। যেখানে নিয়মিত শতাধিক বাস থাকার কথা, সেখানে মাত্র অল্পসংখ্যক যানবাহনের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। পরিবহনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, অনেক পরিবহন প্রতিষ্ঠান এখনো নতুন ব্যবস্থার সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়নি। ফলে ডিপোর মূল উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন ব্যাহত হচ্ছে।
চালক ও শ্রমিকদের অভিযোগ, ডিপোতে প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধার ঘাটতি রয়েছে। খাবারের ব্যবস্থা না থাকায় দূরে গিয়ে খাবার সংগ্রহ করতে হচ্ছে। পাশাপাশি উন্নত শৌচাগার, চলাচলের উপযোগী পাকা মেঝে এবং পর্যাপ্ত বিশ্রামের পরিবেশের অভাবও তাদের ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দিনের বেলায় অস্থায়ী ছাউনির নিচে অতিরিক্ত গরমে অবস্থান করাও কষ্টসাধ্য বলে জানিয়েছেন তারা।
অন্যদিকে দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ধাপে ধাপে সমস্যাগুলোর সমাধানে কাজ চলছে। বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা করা হয়েছে, বিশ্রামের জন্য অস্থায়ী সুবিধাও যোগ করা হয়েছে। খুব শিগগিরই খাবারের ব্যবস্থা চালু হবে এবং ডিপোতে প্রবেশপথের সংস্কার শেষ হলে বাস চলাচল আরও সহজ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, শুধু ডিপো চালু করলেই কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আসবে না। সব পরিবহন প্রতিষ্ঠানকে বাধ্যতামূলকভাবে নতুন ব্যবস্থার আওতায় আনা, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং প্রয়োজনীয় সেবাসুবিধা নিশ্চিত করা গেলে তবেই মহাখালী এলাকার যানজট কমানোর মূল লক্ষ্য বাস্তবে সফল হবে।



