প্রকাশিত: জুলাই ৩০, ২০২৬, ০৪:১৭ পিএম
রাজশাহীর পদ্মা নদীতে নৌকাডুবির ঘটনায় নিখোঁজ থাকা বাবা ও ছেলের মরদেহ দুই দিন পর উদ্ধার করেছে নৌ-পুলিশ। বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) ভিন্ন দুটি স্থান থেকে তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ মর্মান্তিক ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
উদ্ধারকারী সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, দুপুরের দিকে রাজশাহীর পবা উপজেলার শ্যামপুর বালুঘাট এলাকায় ছেলের মরদেহ ভেসে উঠতে দেখে স্থানীয় লোকজন পুলিশকে খবর দেন। এর আগে ভোররাতে কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার পদ্মা নদীর অংশ থেকে বাবার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে নৌ-পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ দুটি নিজেদের হেফাজতে নেয়।
ফায়ার সার্ভিসের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানান, নদীর প্রবল স্রোতের কারণে নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধান পেতে সময় লেগেছে। মরদেহ উদ্ধারের পর প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে তা নৌ-পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। আইনগত কার্যক্রম শেষ হলে মরদেহ পরিবারের সদস্যদের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হবে।
নৌ-পুলিশের কর্মকর্তারা জানান, নিহত দুজনের স্বজনরা মরদেহ শনাক্ত করেছেন। পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর পরবর্তী আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হচ্ছে। ঘটনার পর থেকেই পরিবারের সদস্যরা উৎকণ্ঠার মধ্যে ছিলেন। দুই দিন ধরে নদীতে উদ্ধার অভিযান চালানোর পর অবশেষে তাদের মরদেহ পাওয়া যায়।
উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) দুপুরে রাজশাহীর বড়কুঠি এলাকার পদ্মা নদীতে ঝাউগাছ বোঝাই একটি নৌকা ডুবে যায়। দুর্ঘটনার সময় নৌকায় থাকা ছয়জন প্রাণে বেঁচে গেলেও বাবা ও ছেলে নদীর স্রোতে নিখোঁজ হন। উদ্ধারকারী দল টানা অনুসন্ধান চালালেও প্রথম দুই দিনে তাদের সন্ধান মেলেনি। অবশেষে বৃহস্পতিবার নদীর পৃথক দুটি এলাকা থেকে তাদের মরদেহ উদ্ধার হওয়ায় স্বজনদের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান হলেও শোক আরও গভীর হয়ে ওঠে। স্থানীয়দের দাবি, নদীপথে চলাচলের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হলে এ ধরনের দুর্ঘটনা অনেকাংশে এড়ানো সম্ভব।



