রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

প্রেমের টানে চীন থেকে বাংলাদেশে, ইসলাম গ্রহণ করে বিয়ে করলেন তরুণীকে

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: জুলাই ৩০, ২০২৬, ০৫:০৪ পিএম

প্রেমের টানে চীন থেকে বাংলাদেশে, ইসলাম গ্রহণ করে বিয়ে করলেন তরুণীকে

সংগৃহীত

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচয় থেকে শুরু হওয়া একটি সম্পর্ক শেষ পর্যন্ত পরিণতি পেয়েছে বিয়ের মাধ্যমে। প্রেমের টানে সুদূর চীন থেকে নেত্রকোণার মোহনগঞ্জে এসে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে এক বাংলাদেশি তরুণীকে বিয়ে করেছেন চীনা নাগরিক ওয়্যাং সুলিন। ধর্ম গ্রহণের পর তিনি নিজের নাম পরিবর্তন করে মো. নুর উদ্দিন রেখেছেন। এই ব্যতিক্রমী ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় ব্যাপক কৌতূহল ও আনন্দের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, প্রায় দুই মাস আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওয়্যাং সুলিন ও মোহনগঞ্জের বাসিন্দা নাজমিন আক্তার লিজার পরিচয় হয়। নিয়মিত কথোপকথনের একপর্যায়ে তাদের মধ্যে ভালোবাসার সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরে তারা বিয়ের সিদ্ধান্ত নিলে বিষয়টি উভয় পরিবারের সদস্যদের জানান। পরিবারের সম্মতি পাওয়ার পর চীনা তরুণ গত ১৮ জুলাই বাংলাদেশে আসেন। রাজধানীতে পৌঁছানোর পর কনের স্বজনরা তাকে মোহনগঞ্জে নিয়ে যান।

পরবর্তীতে তিনি ইসলাম ধর্ম গ্রহণের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেন এবং প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষ করে নাজমিন আক্তার লিজার সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। আগামী ৩১ জুলাই নবদম্পতির জন্য পারিবারিকভাবে বিয়ের আনুষ্ঠানিক আয়োজন করা হয়েছে। ইতোমধ্যে অনুষ্ঠান উপলক্ষে সব ধরনের প্রস্তুতি প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে।

কনের পরিবার জানায়, আন্তর্জাতিকভাবে বিদেশি নাগরিকদের সঙ্গে প্রতারণার নানা ঘটনা সামনে আসায় শুরু থেকেই তারা সতর্ক ছিলেন। তাই ছেলের পরিচয়, পারিবারিক তথ্য এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় বিষয় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও চীনে থাকা তার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে যাচাই করা হয়। সব তথ্য সঠিক প্রমাণিত হওয়ার পরই বিয়ের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

জানা গেছে, বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হলে চীনা তরুণ নিজ দেশে ফিরে প্রয়োজনীয় ভিসা ও অন্যান্য কাগজপত্র সম্পন্ন করবেন। এরপর স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে চীনে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

এদিকে বিদেশি জামাইকে একনজর দেখতে প্রতিদিনই স্থানীয় মানুষের ভিড় বাড়ছে কনের বাড়িতে। অনেকে তার সঙ্গে ছবি তুলে স্মৃতি হিসেবে সংরক্ষণ করছেন। স্থানীয়দের মতে, যথাযথ যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে সম্পন্ন হওয়া এই বিয়ে দুই দেশের মানুষের মধ্যে পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও সাংস্কৃতিক বন্ধনের একটি ইতিবাচক উদাহরণ হয়ে থাকবে। নবদম্পতির নতুন জীবন সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধিতে ভরে উঠুক—এমন প্রত্যাশাই করছেন স্বজন ও এলাকাবাসী।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!