প্রকাশিত: আগস্ট ১, ২০২৬, ০৬:০৫ পিএম
নেত্রকোনার বারহাট্টা উপজেলায় ইমামের বেতন বৃদ্ধি ও মসজিদ নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করার অভিযোগকে কেন্দ্র করে দুই ব্যক্তির মাথা ন্যাড়া করে দেওয়ার ঘটনা এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ঘটনাটির একটি দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। যদিও এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ জমা পড়েনি বলে জানিয়েছে পুলিশ।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার সাহতা ইউনিয়নের হেলুচিয়া বাজার এলাকায় সম্প্রতি মসজিদের ইমামের বেতন বৃদ্ধির বিষয়ে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভা শেষে বাজারে অনুদান সংগ্রহ ও মসজিদ-সংক্রান্ত আলোচনার সময় কয়েকজনের মধ্যে কথোপকথন হয়। পরে অভিযোগ ওঠে, ওই আলোচনায় দুই ব্যক্তি মসজিদ ও ইমামের বিষয়ে অসম্মানজনক মন্তব্য করেছেন। বিষয়টি দ্রুত এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের উদ্যোগে একটি গ্রাম্য সালিশ অনুষ্ঠিত হয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, সালিশে অভিযুক্তদের নিজেদের বক্তব্য ব্যাখ্যা এবং প্রকাশ্যে দুঃখ প্রকাশের সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। তবে স্থানীয়দের দাবি, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তারা তা না করায় সালিশের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাদের মাথা ন্যাড়া করে দেওয়া হয়। পুরো ঘটনার সময় উপস্থিত কয়েকজন ভিডিও ধারণ করেন, যা পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
মাথা ন্যাড়া করা দুই ব্যক্তি হলেন মধুপুর গ্রামের মুমিন খান এবং হেলুচিয়া গ্রামের উজ্জল। ভুক্তভোগী মুমিন খানের দাবি, তিনি কোনো অবমাননাকর মন্তব্য করেননি। বরং আলোচনার সময় অন্য একজনের বক্তব্যে সামান্য প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিলেন। পরবর্তীতে তার কথাকে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করে তাকে প্রকাশ্যে অপমান করা হয়েছে। তিনি এ ঘটনার বিচার দাবি করেছেন এবং লিখিত অভিযোগ করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলেও জানিয়েছেন। তার অভিযোগ, উজ্জল কোনো মন্তব্য না করলেও তাকেও একইভাবে শাস্তির মুখে পড়তে হয়েছে।
অন্যদিকে, সালিশে উপস্থিত এক স্থানীয় ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক জানান, এলাকাবাসীর অভিযোগের ভিত্তিতেই সালিশ বসানো হয়েছিল। তাদের দাবি ছিল, অভিযুক্তরা মসজিদ সম্পর্কে অসম্মানজনক মন্তব্য করেছেন। সেই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতেই স্থানীয়দের মতামতের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়।
বারহাট্টা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি পুলিশের নজরে এসেছে। ঘটনার প্রকৃত সত্যতা যাচাই করতে পুলিশ ঘটনাস্থলে কাজ করছে। লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত শেষে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



