প্রকাশিত: আগস্ট ২, ২০২৬, ০৬:১৭ পিএম
সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলায় এক প্রবাসীর স্ত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধারকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। শনিবার সন্ধ্যায় উপজেলার পাইলগাঁও ইউনিয়নের হাড়গ্রাম এলাকার একটি বসতঘর থেকে ২২ বছর বয়সী হালিমা খাতুনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরদিন ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
পুলিশ ও স্বজনদের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় চার মাস আগে পারিবারিকভাবে মালয়েশিয়া প্রবাসী সুনু মিয়ার সঙ্গে হালিমা খাতুনের বিয়ে হয়। বিয়ের কিছুদিন পরই স্বামী কর্মস্থলে ফিরে যান। এরপর থেকে শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাঁর পারিবারিক অশান্তি চলছিল বলে দাবি করেছেন নিহতের স্বজনরা।
শনিবার বিকেলে দীর্ঘ সময় কোনো সাড়া না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা ঘরের জানালা দিয়ে তাকিয়ে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় হালিমাকে দেখতে পান। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে আইনি প্রক্রিয়া শুরু করে।
নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকে বিভিন্ন অজুহাতে তাঁকে মানসিক ও শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হতো। তাঁদের দাবি, যৌতুকসংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে পরিকল্পিতভাবে হালিমাকে হত্যা করা হয়েছে। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
ঘটনার পর নিহতের ও স্বামীর পরিবারের সদস্যদের মধ্যে উত্তেজনা ও বাকবিতণ্ডার সৃষ্টি হয়। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসীর সহায়তায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয় এবং পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে নিয়ে যায়।
জগন্নাথপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে মরদেহের ময়নাতদন্ত করা হয়েছে। প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যুর মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটনের চেষ্টা চলছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।



