রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

গ্যাস সংকটের প্রভাব বাড়ছে, স্বাভাবিক হতে সময় লাগবে

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: আগস্ট ৫, ২০২৬, ১০:৪১ এএম

গ্যাস সংকটের প্রভাব বাড়ছে, স্বাভাবিক হতে সময় লাগবে

ফাইল ছবি

কক্সবাজারের মহেশখালীতে অবস্থিত তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস গ্রহণকেন্দ্রে অগ্নিকাণ্ডের পর সারা দেশে দেখা দেওয়া গ্যাস সংকট এখনো কাটেনি। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে আরও কিছু সময় লাগতে পারে। রক্ষণাবেক্ষণের কাজ চলমান থাকায় ক্ষতিগ্রস্ত কেন্দ্রটি এখনো পূর্ণ সক্ষমতায় চালু হয়নি। তবে আজ আংশিকভাবে কার্যক্রম শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

এই দুর্ঘটনার পর জাতীয় গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থায় উল্লেখযোগ্য ঘাটতি তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়েছে আবাসিক, শিল্প এবং যানবাহনের জ্বালানি খাতে। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় দিনের বেশির ভাগ সময় চুলায় গ্যাস না থাকায় সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। অনেক পরিবার বাধ্য হয়ে বিদ্যুৎচালিত রান্নার যন্ত্র কিংবা গ্যাসের সিলিন্ডারের ওপর নির্ভর করছে, ফলে মাসিক ব্যয়ও বেড়ে গেছে।

সংকট মোকাবিলায় সরকার বিকল্প উৎস থেকে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস আমদানির উদ্যোগ নিয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজার থেকে অতিরিক্ত গ্যাস সংগ্রহের পাশাপাশি নতুন গ্যাসবাহী জাহাজ আনার কার্যক্রমও চলছে। তবুও সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়ায় সংকট পুরোপুরি কাটছে না।

শিল্প খাতেও এর নেতিবাচক প্রভাব স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর, সাভার ও চট্টগ্রামের বহু কারখানায় গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে। কোথাও উৎপাদন অর্ধেকে নেমে এসেছে, আবার কোথাও সাময়িকভাবে উৎপাদন বন্ধ রাখতে হয়েছে। শিল্পমালিকরা বলছেন, এই অবস্থা দীর্ঘায়িত হলে রপ্তানি আদেশ বাস্তবায়নে জটিলতা তৈরি হবে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে দেশের প্রতিযোগিতা সক্ষমতাও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

অন্যদিকে সিএনজিচালিত যানবাহনের চালকদেরও দীর্ঘ সময় ধরে ফিলিং স্টেশনে অপেক্ষা করতে হচ্ছে। অনেকেই প্রয়োজনীয় পরিমাণ গ্যাস না পেয়ে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন। এর প্রভাব গণপরিবহনেও পড়েছে, ফলে যাত্রীদের দুর্ভোগ বাড়ছে।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, এমন পরিস্থিতি ভবিষ্যতে এড়াতে বিকল্প সংরক্ষণব্যবস্থা, অতিরিক্ত গ্রহণকেন্দ্র নির্মাণ এবং গ্যাস ব্যবহারে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা প্রয়োজন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত কেন্দ্র দ্রুত চালুর জন্য কাজ চলছে এবং যত দ্রুত সম্ভব দেশের গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!