রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

গ্যাস সংকটে নারায়ণগঞ্জের পোশাকশিল্পে বড় ধাক্কা

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: আগস্ট ৮, ২০২৬, ০১:২২ পিএম

গ্যাস সংকটে নারায়ণগঞ্জের পোশাকশিল্পে বড় ধাক্কা

ফাইল ছবি

গ্যাসের তীব্র সংকটে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিল্পাঞ্চল নারায়ণগঞ্জের পোশাকশিল্পে বড় ধরনের বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। জ্বালানি সরবরাহ কমে যাওয়ায় বিশেষ করে কাপড় রং ও শুকানোর কারখানাগুলোতে উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে পোশাক তৈরির পরবর্তী ধাপগুলোতেও। ফলে কাটিং, সেলাই, ফিনিশিং ও প্যাকেজিংয়ের কাজ ধীর হয়ে যাওয়ায় নির্ধারিত সময়ে বিদেশে পণ্য পাঠানো নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা।

শিল্পসংশ্লিষ্টদের হিসাবে, সাম্প্রতিক সময়ে নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন কারখানায় উৎপাদন ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে। জেলার প্রায় দেড় শতাধিক কাপড় রং করার কারখানা গ্যাস সংকটে কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। কোনো কোনো কারখানায় যেখানে প্রতিদিন প্রায় ৩০ টন কাপড় রং করার সক্ষমতা রয়েছে, সেখানে উৎপাদন নেমে এসেছে মাত্র এক থেকে দুই টনে।

উৎপাদন কমলেও শ্রমিকদের বেতন, বিদ্যুৎ বিল, ব্যাংক ঋণের কিস্তি, কারখানা রক্ষণাবেক্ষণসহ নিয়মিত ব্যয় ঠিকই বহন করতে হচ্ছে উদ্যোক্তাদের। ফলে প্রতিদিনই বাড়ছে আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ। বড় একটি পোশাক কারখানা এক দিন বন্ধ থাকলে কয়েক দশক লাখ টাকা পর্যন্ত ব্যয় বহন করতে হয় বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

গ্যাস সংকটের কারণে সময়মতো পণ্য পাঠাতে না পারায় বিদেশি ক্রেতাদের কাছ থেকেও চাপ তৈরি হচ্ছে। চুক্তির নির্ধারিত সময় অতিক্রম হলে কোনো কোনো ক্ষেত্রে পণ্যের বিল থেকে ৫ থেকে ১০ শতাংশ পর্যন্ত অর্থ কেটে রাখা হচ্ছে। এতে উদ্যোক্তাদের সরাসরি আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের ভাবমূর্তি ও ক্রেতাদের আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

শিল্পসংশ্লিষ্টদের মতে, একটি পোশাক তৈরির পুরো প্রক্রিয়া পরস্পরের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত। কাপড় রং করার কাজ ব্যাহত হলে পরবর্তী ধাপে প্রয়োজনীয় কাপড় সময়মতো সরবরাহ করা যায় না। ফলে একটি অংশের সংকট দ্রুত পুরো উৎপাদন ব্যবস্থায় ছড়িয়ে পড়ে।

এদিকে জ্বালানি সংকটের প্রভাবে দেশের তৈরি পোশাক খাত ইতোমধ্যে প্রায় এক বিলিয়ন মার্কিন ডলারের ক্ষতির মুখে পড়েছে বলে ব্যবসায়ী সংগঠনের হিসাব। সময়মতো পণ্য সরবরাহ করতে না পারায় বিদেশি ক্রেতাদের কেউ কেউ নতুন কার্যাদেশ অন্য প্রতিযোগী দেশগুলোর দিকে সরিয়ে নিচ্ছেন বলেও জানিয়েছেন শিল্পোদ্যোক্তারা।

নারায়ণগঞ্জে প্রায় দুই হাজারের বেশি পোশাকশিল্প-সংশ্লিষ্ট কারখানায় বিপুলসংখ্যক শ্রমিক কর্মরত। এরই মধ্যে গত এক বছরে জেলার দুই ডজনের বেশি পোশাক কারখানা স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে গেছে এবং কয়েক হাজার শ্রমিক কর্মহীন হয়েছেন।

উদ্যোক্তাদের আশঙ্কা, দ্রুত গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করা না গেলে আরও কারখানা উৎপাদন কমাতে বা বন্ধ করতে বাধ্য হতে পারে। এতে কর্মসংস্থান, রপ্তানি আয় এবং সামগ্রিক অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। তাই শিল্পকারখানায় নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!