প্রকাশিত: আগস্ট ১০, ২০২৬, ১০:২৫ পিএম
যশোরের চৌগাছার মেধাবী শিক্ষার্থী ঋতু খাতুন। এসএসসি পরীক্ষা চলাকালীন হারিয়েছেন জীবনের সবচেয়ে আপন মানুষ বাবাকে। বাবার মৃত্যুর খবর না জেনেই সেদিন পরীক্ষার হলে বসেছিলেন তিনি। পরে বাড়িতে ফিরে জানতে পারেন, তার বাবা আর বেঁচে নেই। বুকভরা শোক নিয়েও থেমে থাকেননি ঋতু। একের পর এক পরীক্ষা শেষ করে এবার এসএসসিতে পেয়েছেন সর্বোচ্চ ফল জিপিএ-৫।
ঋতু খাতুন চৌগাছা উপজেলার হাকিমপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা। তিনি হাকিমপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মানবিক বিভাগ থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেন। তার বাবা কবির হোসেন দীর্ঘদিন ধরে ক্যান্সারে ভুগছিলেন। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন তিনি। ঋতু ও তার পরিবারের সদস্যদের জন্য বাবার অসুস্থতা যেমন ছিল বড় দুশ্চিন্তার, তেমনি ছিল সংসার চালানোর কঠিন বাস্তবতা।
পরিবারের সদস্যদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, পরীক্ষা শুরুর আগেই বাবার শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়। পরে তাকে যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরীক্ষা চলাকালে গত ১০ মে ভোররাতে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান কবির হোসেন।
সেদিন ঋতুর পরীক্ষা ছিল বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা বিষয়ে। বাবার মৃত্যুর খবর যাতে পরীক্ষার আগে জানতে না পারেন, সে জন্য পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি গোপন রাখেন। নির্ধারিত সময়ে তিনি প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরের পরীক্ষা কেন্দ্রে গিয়ে পরীক্ষায় অংশ নেন। পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর বাড়িতে ফিরে জানতে পারেন, তার বাবা আর নেই।
প্রিয় বাবাকে শেষবারের মতো বিদায় জানানোর পর আবারও পরীক্ষার প্রস্তুতিতে বসতে হয় ঋতুকে। স্বজন হারানোর অসহনীয় শোক, পারিবারিক অনটন এবং মানসিক চাপ—কোনো কিছুই তাকে লক্ষ্যে পৌঁছানো থেকে বিরত রাখতে পারেনি। শেষ পর্যন্ত সব পরীক্ষা সম্পন্ন করেন তিনি।
ফল প্রকাশের পর দেখা যায়, ঋতু জিপিএ-৫ পেয়েছেন। সাফল্যের খবরেও তার মনে আনন্দের পাশাপাশি বাবাকে হারানোর বেদনা আরও তীব্র হয়ে উঠেছে। ঋতু বলেন, বাবা বেঁচে থাকলে তার এই ফল দেখে সবচেয়ে বেশি খুশি হতেন। বাবার স্বপ্ন পূরণ করতে তিনি উচ্চশিক্ষা চালিয়ে যেতে চান। তবে বাবার অনুপস্থিতিতে পড়াশোনার খরচ নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন তিনি।
ঋতুর শিক্ষকরা জানান, ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনায় অত্যন্ত মনোযোগী ছিলেন তিনি। প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও তার ফলাফলে কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়েনি। তার এই সাফল্য অন্য শিক্ষার্থীদের জন্যও অনুপ্রেরণার।
ঋতুর উচ্চশিক্ষা নিশ্চিত করতে সহযোগিতার প্রয়োজন বলে মনে করছেন শিক্ষক ও স্থানীয়রা। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও তার পাশে থাকার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। পরিবার ও শিক্ষকদের প্রত্যাশা, প্রয়োজনীয় সহায়তা পেলে ঋতু ভবিষ্যতে আরও ভালো ফল করে নিজের স্বপ্ন পূরণ করতে পারবেন।



