প্রকাশিত: আগস্ট ১২, ২০২৬, ০৬:৪৯ পিএম
সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে দুই শিশু সন্তানকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তাদের বাবা কামরুল হাসানের বিরুদ্ধে। পারিবারিক বিরোধ ও স্ত্রীর প্রতি ক্ষোভ থেকে তিনি নিজের ছেলে ও মেয়েকে হত্যা করেছেন বলে পুলিশের কাছে প্রাথমিকভাবে স্বীকার করেছেন। পরে স্থানীয় বাসিন্দারা তাকে আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন।
নিহত দুই শিশু হলো ৭ বছর বয়সী মোহাদ্দিছ মিয়া ও ৪ বছর বয়সী তুলনা আক্তার। তাদের বাবা কামরুল হাসান দিরাই উপজেলার চরনারচর ইউনিয়নের পেরুয়া-মধুপুর গ্রামের বাসিন্দা এবং পেশায় ভ্রাম্যমাণ ব্যবসায়ী।
পুলিশ ও স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ৭ আগস্ট বিকেলে দুই সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন কামরুল। এরপর শিশু দুটির আর কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছিল না। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করেও তাদের সন্ধান পাননি। কয়েক দিন পর কামরুল একা বাড়িতে ফিরে এলে তার আচরণ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে সন্দেহ তৈরি হয়।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) দুপুরে শান্তিগঞ্জ উপজেলার দামোধরতপী-নোয়াগাঁও এলাকার কাছে সুনামগঞ্জ-সিলেট সড়কের পাশ থেকে এক শিশুর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তখন মরদেহটির পরিচয় জানা যায়নি। পরদিন বুধবার (১২ আগস্ট) দুপুরে সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার দেখার হাওরসংলগ্ন সড়কের পাশ থেকে আরেক শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
স্থানীয়দের জিজ্ঞাসাবাদের মুখে কামরুল দুই সন্তানকে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন বলে পুলিশ জানিয়েছে। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সিলেটে যাওয়ার পথে মেয়েকে সড়কের পাশে রেখে যান তিনি। পরে ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে সিলেট শহরে ঘোরাফেরা করেন। বাড়ি ফেরার পথে ছেলেকে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে হত্যার পর তার মরদেহও সড়কের পাশে ফেলে দেন বলে পুলিশের কাছে জানিয়েছেন তিনি।
পরে স্থানীয় বাসিন্দারা কামরুলকে চরনারচর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পরিতোষ রায়ের কাছে নিয়ে যান। সেখানে উপস্থিত লোকজনের সামনে তিনি সন্তানদের হত্যার কথা স্বীকার করেছেন বলে চেয়ারম্যান জানান। এরপর তাকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুজন সরকার জানান, পারিবারিক কলহের কারণে ক্ষোভ থেকে দুই সন্তানকে হত্যার কথা কামরুল প্রাথমিকভাবে স্বীকার করেছেন। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আগে উদ্ধার হওয়া অজ্ঞাত দুই শিশুর মরদেহ তার সন্তানদের বলে শনাক্ত করা হয়েছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে বুধবার সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের মর্গে দুই শিশুর মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ ও হত্যাকাণ্ডের বিস্তারিত তথ্য নিশ্চিত করতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।



