রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

মিথ্যা যৌতুক মামলায় স্ত্রীকে ১০ দিনের কারাদণ্ড

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: আগস্ট ১৩, ২০২৬, ১০:১৬ পিএম

মিথ্যা যৌতুক মামলায় স্ত্রীকে ১০ দিনের কারাদণ্ড

সংগৃহীত

মানিকগঞ্জের সিংগাইরে স্বামীর বিরুদ্ধে করা যৌতুকের মামলায় অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় স্ত্রীকে মিথ্যা মামলা দায়েরের দায়ে ১০ দিনের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে মামলায় অভিযুক্ত স্বামী মো. আরিফুল ইসলাম রতনকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) মানিকগঞ্জ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ২ নম্বর আদালতে এ রায় ঘোষণা করা হয়। বিচারক দোলন বিশ্বাস বাদী ও আসামির উপস্থিতিতে রায় দেন। রায়ে দণ্ডপ্রাপ্ত নারীকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হলেও পরে আপিল করার সুযোগ রেখে তাকে জামিন দেওয়া হয়।

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০২১ সালের ২২ জানুয়ারি আরিফুল ইসলাম রতনের সঙ্গে লাভলী আক্তারের বিয়ে হয়। বিয়ের পর দাম্পত্য জীবনে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০২২ সালের মার্চে লাভলী তার স্বামীর বিরুদ্ধে যৌতুকের অভিযোগে মামলা করেন।

মামলায় বলা হয়, স্বামী তার কাছে পাঁচ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেছিলেন এবং টাকা না দেওয়ায় তাকে মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়। অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা শুরু হলে বাদীপক্ষ থেকে মোট তিনজন সাক্ষ্য দেন।

তবে বিচার চলাকালে আসামিপক্ষের আইনজীবী মামলার বর্ণনার সঙ্গে বাস্তব ঘটনার একটি গুরুত্বপূর্ণ অসঙ্গতি আদালতের নজরে আনেন। তাদের দাবি, মামলায় যে সময়ের ঘটনা উল্লেখ করা হয়েছে, তার প্রায় সাত মাস আগেই আরিফুল ইসলাম রতন কর্মসূত্রে বিদেশে চলে গিয়েছিলেন। ফলে ওই সময়ে দেশে থেকে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করার বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।

সাক্ষ্য ও নথিপত্র পর্যালোচনা শেষে আদালতের কাছে বাদীপক্ষের অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি বলে প্রতীয়মান হয়। এরপর স্বামীকে মামলার দায় থেকে অব্যাহতি দিয়ে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়। একই সঙ্গে অভিযোগটি মিথ্যা প্রমাণিত হওয়ায় বাদী লাভলী আক্তারকে ১০ দিনের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

রায়ের পর লাভলী আক্তারের আইনজীবী আপিলের জন্য সময় চেয়ে জামিন আবেদন করেন। আদালত এক মাসের মধ্যে আপিল করার শর্তে এক হাজার টাকার বন্ডে তার জামিন মঞ্জুর করেন।

আইনজীবীরা বলছেন, আদালতে মিথ্যা অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। এ ধরনের রায় মিথ্যা মামলা করে কাউকে হয়রানি করার প্রবণতা কমাতে ভূমিকা রাখতে পারে। একই সঙ্গে আইনজীবীরা মনে করছেন, পারিবারিক বিরোধের ক্ষেত্রে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার আগে অভিযোগের সত্যতা ও প্রমাণ সম্পর্কে সতর্ক থাকা জরুরি।

আদালতের এই রায়কে ঘিরে সিংগাইরে আলোচনা তৈরি হয়েছে। তবে আপিলের সুযোগ থাকায় মামলাটির আইনি প্রক্রিয়া এখানেই শেষ হচ্ছে না।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!