প্রকাশিত: আগস্ট ২০, ২০২৬, ০৪:৩৮ পিএম
বগুড়ার শেরপুরে নিজ মেয়েকে ধর্ষণের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আব্দুল খালেক নামে এক ব্যক্তিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই রায়ে তাকে দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ডও দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বগুড়া শিশু দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক ও জেলা ও দায়রা জজ মারুফ হোসেন এ রায় ঘোষণা করেন। দণ্ডপ্রাপ্ত আব্দুল খালেকের বয়স ৫১ বছর। তিনি শেরপুর উপজেলার বাগড়া বস্তি এলাকার বাসিন্দা। রায় ঘোষণার সময় তিনি আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২০ সালের ২১ অক্টোবর ভোরে বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগে খালেক তার নিজ মেয়ের ওপর যৌন নির্যাতন চালান। ওই সময় শিশুটির সৎ মা স্থানীয় একটি চাতালে ধান সেদ্ধ করার কাজে গিয়েছিলেন। ঘটনার পর বিষয়টি কাউকে জানালে মেয়েকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়।
ঘটনার পর শিশুটির আচরণে পরিবর্তন লক্ষ্য করেন পরিবারের সদস্যরা। সে নিয়মিত বাড়ির কাজ করা বন্ধ করে দেয়। বিষয়টি নিয়ে সৎ মা তাকে শাসন ও মারধর করতে থাকেন। একপর্যায়ে শিশুটি তার সৎ মাকে বাবার নির্যাতনের কথা জানায়। তবে প্রথমদিকে তিনি মেয়ের অভিযোগ বিশ্বাস করেননি। বরং শিশুটির ওপর আরও নির্যাতন করা হয়।
পরিস্থিতি অসহনীয় হয়ে উঠলে শিশুটি তার দুই সহপাঠীর কাছে বিষয়টি প্রকাশ করে। পরে তাদের কাছ থেকে ঘটনা জানতে পারেন স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা। তারা বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানান। এরপর ২০২০ সালের ৩১ অক্টোবর শিশুটির মা ও আসামির দ্বিতীয় স্ত্রী শেরপুর থানায় মামলা করেন।
মামলার বিচারপ্রক্রিয়ায় রাষ্ট্রপক্ষ বিভিন্ন সাক্ষ্য ও নথি আদালতে উপস্থাপন করে। দীর্ঘ বিচারিক কার্যক্রম শেষে উপস্থাপিত প্রমাণ পর্যালোচনা করে আদালত আসামিকে দোষী সাব্যস্ত করেন। পরে তাকে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড এবং দুই লাখ টাকা জরিমানার আদেশ দেওয়া হয়।
এ রায়ের মধ্য দিয়ে শিশুর প্রতি যৌন সহিংসতার মতো গুরুতর অপরাধের ক্ষেত্রে আদালতের কঠোর অবস্থানের বিষয়টি আবারও সামনে এসেছে। একই সঙ্গে পরিবারের ভেতরে শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং নির্যাতনের অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়ার প্রয়োজনীয়তাও আলোচনায় এসেছে।



