রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

বাবা নিখোঁজ, মা নেই; দুই ভাইয়ের পাশে প্রশাসন

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: আগস্ট ২১, ২০২৬, ০৯:০৮ পিএম

বাবা নিখোঁজ, মা নেই; দুই ভাইয়ের পাশে প্রশাসন

সংগৃহীত

পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার চরবিশ্বাসে অভাবের কারণে শৈশবেই জীবিকার তাগিদে নেমে পড়া দুই ভাই এবার স্কুলে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছে। বাবা দীর্ঘদিন ধরে নিখোঁজ, আর মা নতুন সংসার শুরু করায় রহমাতউল্লাহ্ ও আব্দুল্লাহ্‌র দায়িত্ব এসে পড়ে অসুস্থ ও অসচ্ছল দাদা মনির মাতুব্বরের ওপর। সংসারে নিত্যদিনের অভাবের কারণে পড়াশোনার বয়সেই দুই শিশুকে পান ও ঝালমুড়ি বিক্রি করে নিজেদের খরচ চালাতে হচ্ছিল।

দুই ভাইয়ের বাবা আলিউল মাতুব্বর দীর্ঘদিন আগে নিখোঁজ হন। অনেক খোঁজাখুঁজি করেও পরিবারের সদস্যরা তার সন্ধান পাননি। স্বামীর অনুপস্থিতিতে অসহায় হয়ে পড়েন তাদের মা। পরে তিনি অন্যত্র বিয়ে করে নতুন সংসারে চলে যান। এতে কার্যত অভিভাবকহীন হয়ে পড়ে দুই শিশু।

বৃদ্ধ দাদা মনির মাতুব্বরের কাছেই আশ্রয় নেয় তারা। তিনি পেশায় কৃষক। নিজের সংসারের প্রয়োজন মেটাতেই যেখানে তাকে সংগ্রাম করতে হয়, সেখানে দুই নাতির খাবার, পোশাক ও অন্যান্য চাহিদা পূরণ করা তার জন্য কঠিন হয়ে পড়ে। একপর্যায়ে বাধ্য হয়ে দুই ভাই বিভিন্ন হাট-বাজার ও মাঠে পান এবং ঝালমুড়ি বিক্রি শুরু করে।

তবে তাদের মনে ছিল পড়াশোনা করার প্রবল আগ্রহ। বিষয়টি গলাচিপা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবুজর মো. ইজাজুল হকের নজরে এলে তিনি দুই শিশুকে নিজের কার্যালয়ে ডেকে তাদের সঙ্গে কথা বলেন। তাদের পারিবারিক অবস্থা ও শিক্ষার আগ্রহ সম্পর্কে জানার পর তিনি প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার নির্দেশ দেন।

উপজেলা প্রশাসনের ব্যবস্থাপনায় রহমাতউল্লাহ্ ও আব্দুল্লাহ্‌কে চরবিশ্বাস সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি করা হয়েছে। পাশাপাশি তাদের বিদ্যালয়ের পোশাকের ব্যবস্থাও করা হয়েছে। এতে দুই ভাইয়ের জীবনে ফিরে এসেছে নতুন আশার আলো।

এতদিন জীবিকার জন্য যে হাতে পান ও ঝালমুড়ির সামগ্রী থাকত, এখন সেই হাতেই উঠেছে বই-খাতা। বিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে দুই ভাইয়ের চোখেমুখে ফুটে উঠেছে আনন্দ। নিয়মিত পড়াশোনা করে ভবিষ্যতে নিজেদের অবস্থার পরিবর্তন করতে চায় তারা।

উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, শুধু বিদ্যালয়ে ভর্তি করেই দায়িত্ব শেষ নয়; দুই শিশুর পড়াশোনা ও সার্বিক পরিস্থিতির দিকেও নজর রাখা হবে। স্থানীয় বাসিন্দারাও প্রশাসনের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাদের মতে, একটি শিশুকে শ্রমের পরিবর্তে শিক্ষার সুযোগ করে দেওয়া তার ভবিষ্যৎ গঠনের পাশাপাশি সমাজের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ বিনিয়োগ।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!