প্রকাশিত: আগস্ট ২৩, ২০২৬, ০৮:২৬ এএম
রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়া এলাকায় একটি তালাবদ্ধ বাড়ি থেকে একই পরিবারের চার সদস্যের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহতদের মধ্যে রংপুর জিলা স্কুলের সাবেক শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী জুয়েলও রয়েছেন। শনিবার (২২ আগস্ট) রাতে বাড়িটির তালা ভেঙে পুলিশ মরদেহগুলো উদ্ধার করে।
নিহতরা হলেন—গণপতি চক্রবর্তী জুয়েল (৬৫), তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী (৫০), মেয়ে পার্থী চক্রবর্তী (২৪) এবং ছেলে পিয়ম চক্রবর্তী (১২)। পারিবারিকভাবে তারা ওই বাড়িতেই বসবাস করতেন।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, শনিবার সন্ধ্যার দিকে বাড়ির ভেতর থেকে পচা গন্ধ বের হতে থাকে। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হলে তারা পুলিশকে খবর দেন। পরে কোতোয়ালী থানা পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে বাড়ির দরজা-তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। সেখানে পরিবারের চার সদস্যের মরদেহ দেখতে পান তারা।
পুলিশ জানিয়েছে, দুইতলা বাড়িটির ছাদ থেকে গণপতি চক্রবর্তীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তার স্ত্রী ও মেয়ের মরদেহ পাওয়া যায় সিঁড়ির কাছে। অন্যদিকে ছেলে পিয়মের মরদেহ ছিল একটি কক্ষে।
গণপতি চক্রবর্তী শিক্ষকতা থেকে অবসর নেওয়ার পর নিজ বাড়িতে হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসার চেম্বার পরিচালনা করতেন। তার মেয়ে পার্থী চক্রবর্তী কারমাইকেল কলেজে স্নাতকোত্তর পর্যায়ে পড়াশোনা করছিলেন। ছেলে পিয়ম ছিল রংপুর জিলা স্কুলের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী।
ঘটনাস্থলে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ, মহানগর পুলিশ ও গোয়েন্দা পুলিশের সদস্যরা আলামত সংগ্রহ ও তদন্তের কাজ করছেন। মরদেহগুলো ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানোর প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি দুই থেকে তিন দিন আগের হতে পারে বলে ধারণা করছে পুলিশ। ঘটনাস্থলের বিভিন্ন আলামত দেখে হত্যাকাণ্ডের সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বাড়ির বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় পাওয়া গেছে। একই সঙ্গে ঘরের কয়েকটি স্থানে ভাঙচুরের চিহ্ন এবং স্বর্ণালংকার রাখার স্থান তছনছ অবস্থায় দেখা গেছে।
তবে এটি ডাকাতি, হত্যাকাণ্ড নাকি অন্য কোনো কারণে ঘটেছে, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।



