প্রকাশিত: আগস্ট ২৩, ২০২৬, ০৩:০৩ পিএম
রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়া এলাকায় সাবেক শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ একই পরিবারের চারজনকে হত্যার ঘটনায় দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হত্যাকাণ্ডের পর ঘটনাস্থলেই গোসল করা, খাবার খাওয়া এবং আলামত নষ্টের চেষ্টা করার কথা জানিয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
রোববার (২৩ আগস্ট) দুপুর পৌনে ১টার দিকে রংপুর মহানগর পুলিশের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আব্দুল মাবুদ।
গ্রেপ্তার দুজন হলেন মাছুয়াপাড়া এলাকার মুগ্ধ দাস ও তার মামাতো ভাইয়ের ছেলে সিদ্ধার্থ দাস। সিদ্ধার্থ নগরীর একটি স্বর্ণালংকারের দোকানে এবং মুগ্ধ সিটি বাজারের একটি মাছের দোকানে কাজ করেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ কমিশনারের ভাষ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার রাতে মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থ এক মাদক বিক্রেতার কাছ থেকে মাদক সংগ্রহ করে স্থানীয় এক ব্যক্তির বাসায় সেবন করেন। পরে রাতের শেষ দিকে তারা একটি নির্মাণাধীন ভবনের ছাদ হয়ে গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ির ছাদে যান। সেখানে অবস্থানের সময় শব্দ পেয়ে গণপতি চক্রবর্তী ছাদে এলে তাকে কাপড় পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয় বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে উঠে এসেছে।
এরপর তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী ছাদে এলে তাকেও হত্যা করা হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে। মায়ের চিৎকার শুনে মেয়ে পার্থী চক্রবর্তী এগিয়ে এলে তাকেও শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। পুলিশের দাবি, হত্যাকারীরা তার মৃত্যু নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ করে। পরে গণপতি চক্রবর্তীর অপ্রাপ্তবয়স্ক ছেলে প্রিয়ম চক্রবর্তীকেও কাপড় ও বালিশ ব্যবহার করে হত্যা করা হয় বলে জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে।
হত্যাকাণ্ডের পর ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যাওয়ার পরিবর্তে দুজন কিছু সময় ওই বাড়িতেই অবস্থান করেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। তারা বাড়ির বাথরুমে গোসল করেন এবং খাবার হিসেবে খেজুর ও শসা খান। পরে সেখানে আবার মাদক সেবন করেন বলেও পুলিশের দাবি।
তদন্তকারীদের ভাষ্য, নিজেদের ব্যবহৃত দুটি মুঠোফোনের সম্ভাব্য আলামত নষ্ট করার চেষ্টা করা হয়। এ জন্য ফোন দুটি পরিষ্কারক দ্রবণ মেশানো পানিতে রাখা হয়েছিল বলে পুলিশ জানিয়েছে।
পুলিশ আরও জানায়, হত্যাকাণ্ডকে ডাকাতির ঘটনা হিসেবে দেখানোর উদ্দেশ্যে ঘরের বিভিন্ন জিনিসপত্র এলোমেলো করা হয়। বাড়িতে থাকা স্বর্ণালংকার পরীক্ষা করতে আগুনও জ্বালানো হয়েছিল বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তথ্য পাওয়া গেছে। পরে স্বর্ণালংকার নিয়ে তারা সেখান থেকে বেরিয়ে একটি পরিত্যক্ত বাড়িতে সেগুলো লুকিয়ে রাখেন। পুলিশ সেখান থেকে স্বর্ণালংকার উদ্ধার করেছে বলে জানিয়েছে।
শুক্রবার জুমার নামাজের সময় আশপাশের সড়কে মানুষের চলাচল তুলনামূলক কম থাকায় ওই সময় তারা বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান বলে পুলিশ জানিয়েছে।
ঘটনাটি নিয়ে রংপুর নগরীর কোতোয়ালি থানায় হত্যা মামলা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের পেছনে আর কেউ জড়িত কি না, ঘটনার পুরো কারণ এবং অন্যান্য আলামত যাচাই করতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। দ্রুত তদন্ত শেষ করে আদালতে অভিযোগপত্র দেওয়ার চেষ্টা করা হবে বলে জানিয়েছেন পুলিশ কমিশনার।



