প্রকাশিত: আগস্ট ২৪, ২০২৬, ১১:১১ এএম
১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচিত ফুটপাতের খাবারের দোকানের মালিক মিজান, যিনি ‘ভাইরাল মিজান’ নামে পরিচিত। রোববার (২৩ আগস্ট) সকালে কারা কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শেষে তিনি মুক্তি পান।
কারাগার সূত্রে জানা গেছে, নির্ধারিত সাজা ভোগের পর মিজানকে মুক্তি দেওয়া হয়। কারাগারের ফটকে এ সময় তার স্বজন ও কয়েকজন শুভাকাঙ্ক্ষী উপস্থিত ছিলেন। পরে কারাগার থেকে বেরিয়ে নিজের দোকান ও ফুটপাতের ব্যবসা নিয়ে কথা বলেন তিনি।
কারামুক্তির পর মিজান বলেন, রাজধানীর ফুটপাতে যদি অন্যদের দোকান থাকতে পারে, তাহলে তার দোকানও সেখানে থাকার সুযোগ দিতে হবে। নিজের দোকানটি যেভাবে ভেঙে দেওয়া হয়েছে, সেটি পুনরায় করার জন্য অন্তত জায়গা দেওয়ার দাবি জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, তার পরিচিতি বা আলোচনায় থাকার বিষয়টিকে কেন্দ্র করে কোনো বিশেষ সুবিধা চান না। বরং নিজের ব্যবসা চালানোর জন্য ন্যায্য সুযোগই তার প্রত্যাশা। দোকানটি পুনর্নির্মাণের জায়গা দেওয়া হলে তিনি আবার ব্যবসা শুরু করতে পারবেন বলেও জানান।
এর আগে গত ৯ আগস্ট রাজধানীর আগারগাঁও এলাকা থেকে মিজানকে আটক করা হয়। ওই এলাকায় নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে ফুটপাতসহ বিভিন্ন স্থাপনায় অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার কার্যক্রম চলছিল। এ সময় বিদ্যুৎ বিভাগের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মিজানের দোকানে থাকা অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে যান।
সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার সময় মিজানের সঙ্গে কর্মকর্তাদের বাগ্বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে ঘটনাস্থলে থাকা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তাকে ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন। পরে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
মিজানের ফুটপাতের খাবারের দোকান নিয়ে এর আগেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা হয়েছে। তার দোকানের খাবার পরিবেশন, কথাবার্তা এবং নানা কর্মকাণ্ডের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর তিনি পরিচিতি পান। তবে ফুটপাত দখল, অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ ও নগর ব্যবস্থাপনা নিয়ে তার দোকানকে ঘিরে বিতর্কও তৈরি হয়।
কারামুক্তির পর মিজানের বক্তব্যে আবারও তার দোকান পুনর্নির্মাণের দাবি সামনে এসেছে। তবে ফুটপাতের জায়গা ব্যবহারের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিয়ম ও অনুমোদনের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।



