রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

রংপুরে চার খুনে আসামির শার্ট নিয়ে নতুন প্রশ্ন

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: আগস্ট ২৪, ২০২৬, ১২:১১ পিএম

রংপুরে চার খুনে আসামির শার্ট নিয়ে নতুন প্রশ্ন

ছবি: সংগৃহীত

রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়ায় সাবেক শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী ও দুই সন্তানের হত্যাকাণ্ডের তদন্তে গ্রেপ্তার দুই যুবকের একজনের পরনে থাকা শার্ট নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে। মরদেহ উদ্ধারের দিন ঘটনাস্থলে থাকা রংপুর মহানগর পুলিশের এক কর্মকর্তার পরনেও একই ধরনের শার্ট দেখা যাওয়ার বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। তবে পুলিশ বলছে, একই ধরনের পোশাক একাধিক ব্যক্তির পরনে থাকাটা অস্বাভাবিক নয়।

হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গ্রেপ্তার সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসকে রোববার (২৩ আগস্ট) বিকেলে আদালতে হাজির করা হয়। পরে রংপুর মহানগর হাকিম আদালতের বিচারক মো. রফিকুল ইসলামের কাছে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় তাদের জবানবন্দি নেওয়া হয়। পুলিশ জানিয়েছে, জবানবন্দিতে দুজনই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে নিজেদের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন। জবানবন্দি দেওয়ার পর তাদের আর পুলিশ হেফাজতে নেওয়ার প্রয়োজন হয়নি এবং আদালতের নির্দেশে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

নিহত গণপতি চক্রবর্তীর বড় ভাই গোপীনাথ চক্রবর্তী বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে কোতোয়ালি থানায় হত্যা মামলা করেন। পরে ওই মামলায় সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

তবে আসামিদের স্বীকারোক্তির পরও হত্যাকাণ্ডের বিভিন্ন দিক নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে আসামির পোশাক। মরদেহ উদ্ধারের সময় ঘটনাস্থলের ভিডিওচিত্রে পুলিশের এক কর্মকর্তাকে একই ধরনের শার্ট পরা অবস্থায় দেখা যায় বলে দাবি করা হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা আলোচনা হলেও শুধু পোশাকের মিলের ভিত্তিতে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়।

এ বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, একই নকশা বা ধরনের শার্ট ভিন্ন ব্যক্তির পরনে থাকতেই পারে। ফলে পোশাকের মিলকে তদন্তের কোনো নির্দিষ্ট প্রমাণ হিসেবে দেখা হচ্ছে না।

এদিকে হত্যাকাণ্ডের পেছনের কারণ নিয়েও পুলিশের পক্ষ থেকে প্রাথমিকভাবে একটি বর্ণনা দেওয়া হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দাবি, ঘটনার আগে সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধ মাদক সেবন করেছিলেন। পরে তারা নির্মাণাধীন একটি ভবনের ছাদ হয়ে গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ির ছাদে যান। সেখানে অবস্থানের সময় শব্দ পেয়ে গণপতি চক্রবর্তী ছাদে গেলে তার সঙ্গে তাদের মুখোমুখি হওয়ার ঘটনা ঘটে বলে পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে।

পুলিশ আরও জানিয়েছে, অভিযানের সময় দুজনের একজন পালিয়ে গিয়ে তুতবাগান এলাকায় আত্মগোপন করেন। পরে পাশের দখীগঞ্জ শ্মশান এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তাদের কাছ থেকে হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে তথ্য পাওয়ার কথাও জানিয়েছে পুলিশ।

তবে পুলিশের দেওয়া ঘটনার বিবরণ নিয়ে কিছু প্রশ্নও সামনে এসেছে। বিশেষ করে অন্যত্র অবস্থানের সুযোগ থাকা সত্ত্বেও অভিযুক্তরা কেন গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ির ছাদে গেলেন, হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত উদ্দেশ্য কী ছিল এবং ঘটনায় আর কেউ জড়িত কি না—এসব বিষয় এখনো তদন্তের আওতায় রয়েছে।

তদন্ত কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দুই আসামির জবানবন্দিতে পাওয়া তথ্য যাচাই করা হচ্ছে। পাশাপাশি ঘটনাস্থলের আলামত, প্রত্যক্ষ ও পারিপার্শ্বিক তথ্য এবং অন্যান্য প্রমাণ বিশ্লেষণ করে হত্যাকাণ্ডের পূর্ণ রহস্য উদ্ঘাটনের চেষ্টা চলছে।

চার সদস্যের একটি পরিবারের মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় স্বজন ও স্থানীয়দের মধ্যে যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, তা কাটাতে দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের দিকেই এখন সবার নজর।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!