রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

আমার জীবনের শেষ সম্বলটাও শেষ হয়ে গেল, প্রার্থীকে হারিয়ে অদিতের আকুতি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: আগস্ট ২৪, ২০২৬, ০২:০৯ পিএম

আমার জীবনের শেষ সম্বলটাও শেষ হয়ে গেল, প্রার্থীকে হারিয়ে অদিতের আকুতি

ছবি: সংগৃহীত

রংপুরে গণপতি চক্রবর্তী ও তার পরিবারের চার সদস্যের নৃশংস হত্যাকাণ্ডে নিহত হয়েছেন তাদের ২৫ বছর বয়সী মেয়ে আগামী চক্রবর্তী প্রার্থী। মাত্র একদিন আগেই হবু স্বামী অদিত করের সঙ্গে জীবনের প্রথম যুগল ছবি তুলেছিলেন প্রার্থী। বিয়ের দিনক্ষণও চূড়ান্ত হয়েছিল তাদের। কিন্তু বিয়ের প্রস্তুতির বদলে এখন প্রিয় মানুষকে হারানোর শোক বয়ে বেড়াচ্ছেন অদিত।

হত্যাকাণ্ডের আগের দিন বুধবার অদিত কর তার হবু স্ত্রী আগামী চক্রবর্তীর সঙ্গে একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেন। ছবিটির সঙ্গে তিনি লিখেছিলেন, ‘আমার জীবনের শেষ সম্বলটাও শেষ হয়ে গেল।’ পরে জানা যায়, সেটিই ছিল তাদের প্রথম যুগল ছবি। প্রার্থীর অনুরোধেই সেদিন তারা একসঙ্গে ছবি তুলেছিলেন বলে অদিত জানান।

পরদিনই ঘটে ভয়াবহ হত্যাকাণ্ড। রংপুর নগরের কামালকাছনা-মাছুয়াপাড়ার নিজ বাড়ি থেকে গণপতি চক্রবর্তী জুয়েল, তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী, মেয়ে আগামী চক্রবর্তী প্রার্থী এবং ছেলে আয়ুশ চক্রবর্তী প্রিয়মের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

প্রার্থীর সঙ্গে অদিতের বিয়ে নিয়ে দুই পরিবারের মধ্যে আলোচনা চলছিল। বিয়ের দিনক্ষণও নির্ধারণ করা হয়েছিল বলে অদিতের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বক্তব্য থেকে জানা যায়। ফলে প্রিয় মানুষকে এমন আকস্মিক ও নির্মমভাবে হারিয়ে তিনি চরম মানসিক বিপর্যয়ের মধ্যে পড়েছেন।

অদিতের এক বন্ধু জানান, কিছুদিন আগেই তার বাবা মারা গিয়েছিলেন। এর পরপরই হবু স্ত্রীকে হারানোর ঘটনায় তিনি গভীরভাবে ভেঙে পড়েছেন। তাকে কীভাবে সান্ত্বনা দেওয়া যায়, সেটিও বুঝে উঠতে পারছেন না স্বজন ও বন্ধুরা।

এদিকে চারজনকে হত্যার ঘটনায় পুলিশ ইতোমধ্যে মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থ নামে দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে। পুলিশের প্রাথমিক বক্তব্য অনুযায়ী, গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ির পাশের একটি ভবনের ছাদ দিয়ে ওই দুই যুবক তার বাড়ির ছাদে প্রবেশ করে। সেখানে তারা মাদক সেবন করছিল বলে দাবি পুলিশের।

পুলিশের ভাষ্য, গণপতি চক্রবর্তী তাদের মাদক সেবনের বিষয়টি দেখে ফেলেন এবং এ নিয়ে বকাঝকা করেন। বিষয়টি অন্যদের জানিয়ে দিতে পারেন—এমন আশঙ্কা থেকে তাকে হত্যার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে।

পরে গণপতি চক্রবর্তীর স্ত্রী প্রীতিলতা, মেয়ে প্রার্থী এবং ১২ বছর বয়সী ছেলে প্রিয়মও হত্যার শিকার হন বলে জানিয়েছে পুলিশ। হত্যাকাণ্ডের পর অভিযুক্তরা বাড়িতে অবস্থান করে গোসল ও মাদক সেবন করে এবং পরে ঘরের জিনিসপত্র তল্লাশি করে স্বর্ণালংকার নিয়ে যায় বলেও পুলিশের দাবি।

ঘটনার পর কয়েক দিন পরিবারটির সদস্যদের মুঠোফোনে পাওয়া যাচ্ছিল না। শনিবার রাতে নিহত গণপতির শ্যালিকা বাড়িতে গিয়ে দরজা বন্ধ দেখতে পান। জানালা দিয়ে ঘরের ভেতর এলোমেলো অবস্থা দেখে সন্দেহ হলে স্থানীয়দের জানানো হয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দরজা ভেঙে চারজনের মরদেহ উদ্ধার করে।

এ ঘটনায় গণপতি চক্রবর্তীর বড় ভাই গোপীনাথ চক্রবর্তী বাদী হয়ে হত্যা মামলা করেছেন। গ্রেপ্তার দুই আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়েছে এবং মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

একদিকে চার সদস্যের পরিবারের মর্মান্তিক মৃত্যু, অন্যদিকে বিয়ের মাত্র কয়েক দিন আগে হবু স্ত্রীকে হারানোর ঘটনা রংপুরের এই হত্যাকাণ্ডকে আরও হৃদয়বিদারক করে তুলেছে। প্রার্থীর সঙ্গে অদিতের তোলা শেষ ছবিটি এখন তাদের অসম্পূর্ণ ভালোবাসার নিঃশব্দ স্মৃতি হয়ে রয়েছে।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!