প্রকাশিত: আগস্ট ২৬, ২০২৬, ০৪:৪১ পিএম
পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ার সময় দুর্ঘটনায় এক পা হারিয়েছিল মাহফুজ। এরপর হুইলচেয়ারে বসেই চালিয়ে গেছে পড়াশোনা। শারীরিক সীমাবদ্ধতাকে জয় করে এবার এসএসসি পরীক্ষায় গোল্ডেন জিপিএ-৫ অর্জন করেছে বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার এই মেধাবী শিক্ষার্থী। তার অসাধারণ সাফল্যের খবর শুনে উচ্চশিক্ষাসহ ভবিষ্যতের পড়াশোনার যাবতীয় ব্যয় বহনের ঘোষণা দিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
শুধু পড়াশোনার খরচ নয়, মাহফুজের কৃত্রিম পা সংযোজনের ব্যয়ও নিজ উদ্যোগে বহন করার কথা জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী। বৃহস্পতিবার বগুড়ার টিএমএসএস মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার কৃত্রিম পা সংযোজনের প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
বুধবার (২৬ আগস্ট) দুপুরে শিবগঞ্জ ও মোকামতলা উপজেলার গোল্ডেন জিপিএ-৫ ও জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে মাহফুজের সাফল্যের কথা জানতে পারেন প্রতিমন্ত্রী। অনুষ্ঠানে তার সংগ্রামের গল্প তুলে ধরা হলে উপস্থিত শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অতিথিদের মধ্যে আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
মাহফুজ শিবগঞ্জ উপজেলার কিচক ঠাকুরপাড়া গ্রামের আব্দুল ওহাবের ছেলে। ছোট বয়সে একটি পা হারানোর পর স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় নানা প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হতে হয়েছে তাকে। তবে শারীরিক সীমাবদ্ধতার কাছে হার মানেনি সে। হুইলচেয়ারে বসেই নিয়মিত পড়াশোনা চালিয়ে যায় এবং এসএসসি পরীক্ষায় অসাধারণ ফলাফল অর্জন করে।
মাহফুজের সাফল্যে অনুপ্রাণিত হয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রতিকূলতাকে জয় করে যারা সামনে এগিয়ে যায়, তাদের সহযোগিতা করা সমাজের সবার দায়িত্ব। এমন শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ালে তারা আরও বড় স্বপ্ন দেখার সাহস পাবে। মাহফুজের মেধা ও অধ্যবসায় অন্য শিক্ষার্থীদের জন্যও অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।
এদিকে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে কৃতী শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করতে আরও কিছু উদ্যোগের ঘোষণা দেওয়া হয়। দেশের শীর্ষ ১০টি কলেজের যেকোনো একটিতে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পাওয়া শিক্ষার্থীদের প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা করে পুরস্কার দেওয়ার কথা জানান প্রতিমন্ত্রী। একই সঙ্গে বিদ্যালয়ের ছাত্রীদের জন্য সাইকেল উপহার দেওয়ার ঘোষণাও দেন তিনি।
অনুষ্ঠানে শিবগঞ্জ ও মোকামতলা উপজেলার মোট ২৩৩ জন জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীকে সম্মাননা দেওয়া হয়। তাদের হাতে সনদ, মগ, নগদ অর্থ, খাতা, কলম ও স্কুলব্যাগ তুলে দেওয়া হয়। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের পরিবেশের প্রতি সচেতন করতে ঔষধি, ফলদ ও বনজ গাছের চারাও দেওয়া হয়।
মাহফুজের ফলাফল প্রমাণ করেছে, শারীরিক সীমাবদ্ধতা মানুষের স্বপ্ন ও মেধাকে থামিয়ে দিতে পারে না। তার সংগ্রাম, অধ্যবসায় এবং সাফল্যের গল্প এখন অন্য অনেক শিক্ষার্থীর জন্য অনুপ্রেরণার উৎস। প্রতিমন্ত্রীর সহযোগিতার ঘোষণায় তার উচ্চশিক্ষার পথও আরও সহজ হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।



