প্রকাশিত: আগস্ট ২৭, ২০২৬, ০৯:২৬ পিএম
ভালো বেতন ও উন্নত জীবনের আশায় রাশিয়ায় পাড়ি জমিয়ে নির্মাণশ্রমিকের পরিবর্তে যুদ্ধক্ষেত্রে যেতে হয়েছিল বলে অভিযোগ করেছেন ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার গয়েশপুর গ্রামের যুবক রাজন। রাশিয়ার হয়ে ইউক্রেনের যুদ্ধে অংশ নিতে বাধ্য করার পর ড্রোন হামলায় গুরুতর আহত হয়ে কোনোমতে দেশে ফিরেছেন তিনি। বর্তমানে তাঁর একটি পা অচল হয়ে গেছে। ক্র্যাচের সাহায্যে কষ্ট করে চলাফেরা করছেন এই যুবক।
রাজনের ভাষ্য, পরিবারের আর্থিক দুরবস্থার কারণে বিদেশে গিয়ে কাজ করে পরিবারের অবস্থার পরিবর্তন করার স্বপ্ন দেখেছিলেন তিনি। দালালের মাধ্যমে গত ৭ মে রাশিয়ায় যান। সেখানে যাওয়ার আগে তাঁকে নির্মাণশ্রমিকের কাজ দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু দেশটিতে পৌঁছানোর পর পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন রূপ নেয়। তাঁর অভিযোগ, সেখানে তাঁকে জোর করে সামরিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় এবং পরে রাশিয়ার পক্ষে ইউক্রেনের যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানো হয়।
রাজন জানান, তাঁর সঙ্গে আরও প্রায় ৩০ জন বাংলাদেশি যুবককে যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানো হয়েছিল। সেখানে যাওয়ার কয়েক দিনের মধ্যেই তাঁদের মধ্যে প্রায় ২০ জন নিহত হন বলে দাবি করেন তিনি। এরপর একপর্যায়ে ড্রোন হামলায় গুরুতর আহত হন রাজন। আহত অবস্থায় চার দিন চার রাত বুকের ওপর ভর করে কষ্ট করে একটি শিবিরে ফিরে আসতে সক্ষম হন তিনি।
পরে রাশিয়া ও ইউক্রেনের বিভিন্ন হাসপাতালে তাঁর চিকিৎসা হয়। শারীরিকভাবে কিছুটা সুস্থ হওয়ার পর সেখান থেকে পালিয়ে বাংলাদেশ দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করেন রাজন। পরে দূতাবাসের সহযোগিতায় দেশে ফেরার সুযোগ পান তিনি।
দেশে ফিরে এখনো যুদ্ধের ভয়াবহ স্মৃতি থেকে বের হতে পারছেন না রাজন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, চোখ বন্ধ করলেই বিস্ফোরণের শব্দ, ড্রোন হামলা এবং মৃত্যুভয়ের স্মৃতি মনে পড়ে। একসময় সুস্থ-সবল দেহের অধিকারী এই যুবক এখন অনেকটাই দুর্বল হয়ে পড়েছেন।
রাজনের পরিবারের সদস্যরা জানান, ছেলেকে বিদেশে পাঠানোর জন্য তাঁর বাবা পরিবারের সহায়-সম্বল পর্যন্ত বিক্রি করেছিলেন। কিন্তু বিদেশে গিয়ে কাজের পরিবর্তে যুদ্ধক্ষেত্রে গিয়ে আহত হওয়ায় এখন পরিবারটি চরম আর্থিক সংকটে পড়েছে। রাজনের চিকিৎসা চালানোর মতো অর্থও তাঁদের হাতে নেই।
স্থানীয় বাসিন্দা রফিক বলেন, রাজন ভালো ছেলে। পরিবারের অভাবের কারণেই উন্নত জীবনের আশায় বিদেশে গিয়েছিলেন। বর্তমানে তাঁর শারীরিক অবস্থা দেখে তাঁরা অত্যন্ত মর্মাহত।
রাজনের পরিবার ও স্থানীয়রা বিদেশে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে যুবকদের যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানোর অভিযোগ তদন্ত করে সংশ্লিষ্ট দালালদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে রাজনের উন্নত চিকিৎসা ও পুনর্বাসনে সরকারের সহযোগিতাও কামনা করেছেন তাঁরা।
এ বিষয়ে কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কবির হোসেন জানান, অভিযোগ পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



