প্রকাশিত: আগস্ট ২৯, ২০২৬, ০১:৩৯ পিএম
ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়কে প্রায় ৫০ কিলোমিটার দীর্ঘ যানজটে আটকে পড়ে হৃদরোগে আক্রান্ত এক রোগীকে বহনকারী অ্যাম্বুলেন্স। প্রায় চার ঘণ্টা সড়কে আটকে থাকার পর শেষ পর্যন্ত অ্যাম্বুলেন্সের ভেতরেই আমিরুন্নেছা নামের ওই নারীর মৃত্যু হয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে যানবাহন প্রায় স্থবির হয়ে থাকায় সংকটাপন্ন রোগীকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছেন তাঁর স্বজন।
শুক্রবার দিবাগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে কুমিল্লার দাউদকান্দি এলাকায় অ্যাম্বুলেন্সের মধ্যেই আমিরুন্নেছার মৃত্যু হয়। তিনি লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জ উপজেলার প্রাণভগবতীপুর গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন।
নিহতের স্বজন তারেক আল হাসান জানান, শুক্রবার হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার পর রাত ৮টার দিকে আমিরুন্নেছাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার উদ্দেশে অ্যাম্বুলেন্সে করে রওনা হন তারা। রাত ১১টার দিকে অ্যাম্বুলেন্সটি দাউদকান্দি এলাকায় পৌঁছালে তীব্র যানজটে আটকা পড়ে। এরপর দীর্ঘ সময় ধরে গাড়িটি প্রায় একই জায়গায় আটকে থাকে।
তারেক আল হাসানের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় চার ঘণ্টা যানজটে আটকে থাকার পর রাত সাড়ে ৩টার দিকে অ্যাম্বুলেন্সের মধ্যেই আমিরুন্নেছার মৃত্যু হয়। সংকটাপন্ন অবস্থায় থাকা রোগীকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও যানজটের কারণে তা সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে দাউদকান্দি মহাসড়ক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা প্রেম দাস রায় বলেন, যানজটে আটকে অ্যাম্বুলেন্সে রোগীর মৃত্যুর বিষয়টি তাঁরা আগে জানতে পারেননি। পরে সংবাদকর্মীদের মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পেরেছেন। ঘটনাটি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা চলছে বলে জানান তিনি।
এদিকে দীর্ঘ যানজটে শুক্রবার সকাল থেকে শনিবার দুপুর পর্যন্ত ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়কের নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ের আশরিয়ারচর থেকে কুমিল্লার দাউদকান্দির ইলিয়টগঞ্জ পর্যন্ত প্রায় ৫০ কিলোমিটার এলাকায় যান চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। শুক্রবার সকাল ৮টার দিকে আশরিয়ারচর এলাকায় ঢাকামুখী অংশে সড়ক সংস্কারকাজ শুরু হওয়ার পর থেকেই যানজটের সূত্রপাত হয়।
সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে যানজটের পরিমাণ বাড়তে থাকে। একপর্যায়ে মহাসড়কের দীর্ঘ অংশজুড়ে যানবাহনের সারি তৈরি হয়। অনেক স্থানে গাড়িগুলো ঘণ্টার পর ঘণ্টা প্রায় স্থির অবস্থায় দাঁড়িয়ে থাকে। এতে দূরপাল্লার বাসের যাত্রী, চালক, পরিবহনশ্রমিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েন।
যাত্রীদের অভিযোগ, প্রচণ্ড গরমের মধ্যে দীর্ঘ সময় বাসে আটকে থাকায় নারী, শিশু ও বয়স্ক ব্যক্তিদের দুর্ভোগ সবচেয়ে বেশি হয়েছে। অনেক যাত্রী খাবার ও পানির সংকটেও পড়েছেন। কেউ কেউ বাধ্য হয়ে বাস থেকে নেমে দীর্ঘ পথ হেঁটে যাওয়ার চেষ্টা করেছেন।
চট্টগ্রাম থেকে বাগেরহাটগামী একটি দূরপাল্লার বাসের যাত্রীরা জানান, রাত আড়াইটার দিকে দাউদকান্দির ইলিয়টগঞ্জ এলাকায় যানজটে আটকা পড়েন তাঁরা। সকাল ৮টা পর্যন্ত প্রায় ১০ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে আমিরাবাদ এলাকায় পৌঁছাতে সক্ষম হন। দীর্ঘ সময় ধরে একই গতিতে চলতে থাকায় যাত্রীদের মধ্যে চরম হতাশা তৈরি হয়।
একজন দূরপাল্লার বাসচালক বলেন, ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়ক দেশের অন্যতম ব্যস্ত সড়ক। এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কে সংস্কারকাজ শুরুর আগে যানবাহন নিয়ন্ত্রণ ও বিকল্প ব্যবস্থাপনার বিষয়ে কার্যকর পরিকল্পনা থাকা প্রয়োজন। তা না হলে সামান্য কাজও বড় ধরনের যানজটে পরিণত হয় এবং এর সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী হন সাধারণ যাত্রীরা।
ভবেরচর মহাসড়ক পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক মোহাম্মদ শামীম জানান, আশরিয়ারচর এলাকায় ঢাকামুখী অংশে সংস্কারকাজ শুরু হওয়ায় যানজট তৈরি হয়েছে। যানজট নিয়ন্ত্রণ এবং যাত্রী ও চালকদের দুর্ভোগ কমাতে মহাসড়ক পুলিশ বিভিন্ন স্থানে দায়িত্ব পালন করছে।
তবে হৃদরোগে আক্রান্ত রোগীকে বহনকারী অ্যাম্বুলেন্স দীর্ঘ সময় যানজটে আটকে পড়া এবং পরে রোগীর মৃত্যুর ঘটনায় মহাসড়কের যানজট ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। জরুরি রোগী বহনকারী অ্যাম্বুলেন্সের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করতে এমন পরিস্থিতিতে বিশেষ ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।



