রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

যানজট কমাতে একগুচ্ছ সিদ্ধান্ত প্রধানমন্ত্রীর

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: আগস্ট ২৯, ২০২৬, ১১:৪০ পিএম

যানজট কমাতে একগুচ্ছ সিদ্ধান্ত প্রধানমন্ত্রীর

ফাইল ছবি

রাজধানীর দীর্ঘদিনের যানজট নিরসন, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং গণপরিবহন ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে কাজ শেষ করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

শনিবার (২৯ আগস্ট) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে ঢাকার সামগ্রিক যানজট পরিস্থিতি ও পরিবহন ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বৈঠকে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও উড়ালসড়কে যানবাহনের চাপ, গণপরিবহনের বিশৃঙ্খলা, বাস টার্মিনাল, পার্কিং এবং ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়নসহ বিভিন্ন বিষয় উঠে আসে।

বৈঠকে উড়ালসড়ক ও দ্রুতগতির সড়কের টোলকেন্দ্রে ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে টোল আদায়ের ব্যবস্থা চালুর সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ ব্যবস্থাকে কার্যকর করতে একটি মোবাইলভিত্তিক ব্যবস্থা তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আগামী চার মাসের মধ্যে পুরো কাজ সম্পন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর ফলে টোল আদায়ে সময় কমার পাশাপাশি যানবাহনের চলাচল আরও গতিশীল হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

যাত্রাবাড়ী-গুলিস্তান উড়ালসড়ক ও এর আশপাশের এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে চলা যানজট নিয়েও বৈঠকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। এ সমস্যা সমাধানে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের আগে তৈরি করা প্রতিবেদন পুনরায় পর্যালোচনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনীয় সুপারিশসহ সংশোধিত প্রতিবেদন আগামী ১৫ দিনের মধ্যে জমা দিতে বলা হয়েছে। সিটি করপোরেশন ও ট্রাফিক পুলিশের সমন্বয়ে পরবর্তী কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে।

রাজধানীর গণপরিবহন ব্যবস্থাকে আরও সুশৃঙ্খল করতে ফুলবাড়িয়া বাস টার্মিনাল কেরানীগঞ্জে স্থানান্তরের সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে। এ জন্য স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় জমি অধিগ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হবে। স্থায়ী বাস টার্মিনাল নির্মাণে সময় লাগায় এর আগে অন্তর্বর্তী ব্যবস্থা হিসেবে ঝিলমিল প্রকল্প এলাকায় ১৫ একর জমিতে একটি অস্থায়ী বাস টার্মিনাল নির্মাণের সিদ্ধান্ত হয়েছে। আগামী চার মাসের মধ্যে এটি নির্মাণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

একই সঙ্গে গাবতলী বাস টার্মিনালের পেছনের অংশ সম্প্রসারণের সিদ্ধান্ত হয়েছে। টার্মিনালের ধারণক্ষমতা বাড়ানো এবং যানবাহন ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। সড়ক বিভাগ, ট্রাফিক পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

রাজধানীর অন্যতম ব্যস্ত এলাকা কারওয়ান বাজারের কাঁচাবাজার ও রান্নাঘরভিত্তিক বাজার গাবতলী এলাকায় স্থানান্তরের বিষয়েও সিদ্ধান্ত হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম শুরু করতে বলা হয়েছে। বাজারটি স্থানান্তর করা গেলে ওই এলাকার সড়কে যানবাহন ও পণ্যবাহী পরিবহনের চাপ কমবে বলে বৈঠকে আলোচনা হয়।

সচিবালয়ের আশপাশে যানজট নিয়ন্ত্রণে পার্কিং ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়েও আলোচনা হয়। এ ক্ষেত্রে ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তন এলাকায় গাড়ি রাখার ব্যবস্থা করা যায় কি না, তা খতিয়ে দেখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রয়োজন হলে আরও বিকল্প পার্কিং এলাকা চিহ্নিত করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ঢাকা শহরে অটোরিকশার চলাচল আরও নিয়ন্ত্রিত ও সুশৃঙ্খল করতে পৃথক নীতিমালা প্রণয়নের সিদ্ধান্ত হয়েছে। পাশাপাশি অনুমোদন ছাড়া চলাচলকারী দ্বিতল শয্যাবিশিষ্ট বাসের বিরুদ্ধেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী রাজধানীর যানজট নিরসনে বিভিন্ন সরকারি সংস্থার মধ্যে সমন্বয়ের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রতিটি সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্টদের আন্তরিকভাবে কাজ করার নির্দেশও দেওয়া হয়।

বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, পাবনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুস সালাম, মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিবসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!