রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

কৃষি-মৎস্য-শিক্ষায় বড় পরিকল্পনার কথা জানালেন প্রধানমন্ত্রী

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: আগস্ট ১৬, ২০২৬, ০৪:০০ পিএম

কৃষি-মৎস্য-শিক্ষায় বড় পরিকল্পনার কথা জানালেন প্রধানমন্ত্রী

ফাইল ছবি

একটি কল্যাণমুখী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার প্রত্যয় ব্যক্ত করে দেশের উন্নয়ন ও মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে সরকারের ওপর আস্থা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, সরকারের পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য হচ্ছে সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়ন করা এবং বিশেষ করে গ্রামের মানুষের জন্য অর্থনৈতিক ও সামাজিক সুযোগ বাড়ানো।

রোববার (১৬ আগস্ট) কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার মির্জাপুর চেয়ারম্যানবাড়ি ঘাট এলাকায় আয়োজিত জনসভায় প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। এর আগে জাতীয় মৎস্য পক্ষ-২০২৬ উপলক্ষে পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদে মাছের পোনা অবমুক্ত ও বিতরণ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, নদীতে অবমুক্ত করা মাছের পোনা বড় হয়ে প্রজনন করবে এবং ধীরে ধীরে বিভিন্ন নদী, খাল ও জলাশয়ে ছড়িয়ে পড়বে। এর সুফল দেশের সাধারণ মানুষ ভোগ করবে। মৎস্যসম্পদের উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি এ খাতকে মানুষের আয় ও কর্মসংস্থানের বড় উৎস হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।

কৃষি খাতের উন্নয়নে সারা দেশে খাল খননের কার্যক্রম চালানোর কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এর মাধ্যমে কৃষকরা সেচসহ বিভিন্ন সুবিধা পাবেন। খনন করা খালের পানি সর্বোচ্চ কাজে লাগানোর পাশাপাশি ভবিষ্যতে বড় নদী ও খালগুলোতে মাছ চাষের সুযোগ বাড়ানোর পরিকল্পনাও রয়েছে।

নারী শিক্ষাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নারীদের উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত বিনা মূল্যে পড়াশোনার সুযোগ দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ভালো ফলাফল করা শিক্ষার্থীদের জন্য উপবৃত্তির ব্যবস্থার কথাও জানান তিনি। পাশাপাশি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বইয়ের সঙ্গে পোশাক ও স্কুলব্যাগ দেওয়ার পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন।

নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতে পর্যায়ক্রমে পরিবারের প্রধান নারী বা মায়ের হাতে পারিবারিক কার্ড দেওয়ার কথা জানান প্রধানমন্ত্রী। কিশোরগঞ্জে এ কার্যক্রমের উদ্বোধনের কথাও উল্লেখ করেন তিনি। কৃষকদের জন্য কৃষি কার্ড চালুর পরিকল্পনার কথা জানিয়ে বলেন, এর মাধ্যমে আর্থিক সহায়তার পাশাপাশি সার, বীজ ও কীটনাশক সরবরাহ করা হবে।

আলেম, ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খতিবদের জীবনমান উন্নয়নের উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানান প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে তরুণদের খেলাধুলায় সম্পৃক্ত করে পেশাদার ক্রীড়াবিদ হিসেবে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপর গুরুত্ব দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, উন্নয়ন ও জনকল্যাণের কাজে কেউ বাধা সৃষ্টি করলে কিংবা মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করলে জনগণকে ঐক্যবদ্ধভাবে তা প্রতিহত করতে হবে।

রাষ্ট্রের অর্থনীতি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে পুনর্গঠনের প্রয়োজন রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, একদিনে সব সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। ধাপে ধাপে রাষ্ট্র মেরামত ও পুনর্গঠনের কাজ এগিয়ে নিতে হবে।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। আগামী ২৭ আগস্ট জাতীয় সংসদে আগামী ১০ বছরের জন্য বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধানসংক্রান্ত পরিকল্পনা উপস্থাপনের কথা জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, জনগণ বিএনপির প্রতি যে আস্থা ও সমর্থন দেখিয়েছে, সেই আস্থা ধরে রাখতে সরকার কাজ করবে। শান্তি, শৃঙ্খলা, আইনের শাসন, কর্মসংস্থান ও সুশিক্ষা নিশ্চিত করাই সরকারের অন্যতম লক্ষ্য। পাকুন্দিয়ার কর্মসূচি শেষে তিনি কটিয়াদীর কার্প হ্যাচারি কমপ্লেক্স পরিদর্শনের উদ্দেশে রওনা হন।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!