প্রকাশিত: আগস্ট ২৯, ২০২৬, ০৬:৫৫ পিএম
আগামী গ্রীষ্মে দেশে বিদ্যুতের সংকট চলতি সময়ের তুলনায় অনেকটাই কমে আসবে বলে আশাবাদ জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। তিনি বলেছেন, সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়াতে সরকার উদ্যোক্তাদের বিভিন্ন ধরনের সুযোগ-সুবিধা দিচ্ছে। এর ফলে আগামী গ্রীষ্ম শুরুর আগেই দেশে প্রায় ৩ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা তৈরি হতে পারে।
শনিবার (২৯ আগস্ট) দুপুরে যশোর পিটিআই অডিটোরিয়ামে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সভায় মানসম্মত ও নৈতিক শিক্ষার উন্নয়ন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা এবং স্বাস্থ্যসম্মত পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা হয়। এতে প্রধান শিক্ষক, শিক্ষা কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতিরা অংশ নেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যাওয়ার প্রভাব কোনো দেশই পুরোপুরি এড়িয়ে যেতে পারছে না। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে জ্বালানি তেল ও গ্যাসের মূল্য বাড়ছে। বাংলাদেশের মতো একটি দেশেও বৈশ্বিক বাজারের এই পরিবর্তনের প্রভাব পড়ছে। তবে সাধারণ মানুষের ওপর চাপ কম রাখতে সরকার পরিস্থিতি বিবেচনা করে ধাপে ধাপে মূল্য সমন্বয়ের উদ্যোগ নিচ্ছে।
জ্বালানি ব্যবহারে সাশ্রয়ী হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, শুধু সরকার বা বড় প্রতিষ্ঠান নয়, প্রত্যেক নাগরিকের মধ্যেই সম্পদের যথাযথ ব্যবহারের মানসিকতা তৈরি করা প্রয়োজন। ছোটবেলা থেকেই শিশুদের পানি, বিদ্যুৎ ও অন্যান্য সম্পদের অপচয় না করার শিক্ষা দিতে হবে। এতে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম দায়িত্বশীলভাবে দেশের সম্পদ ব্যবহার করতে শিখবে।
শিক্ষকদের প্রতি নৈতিক শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, শিশুর চরিত্র গঠনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময় প্রাথমিক পর্যায়। তাই শিক্ষার্থীদের পাঠ্যবইয়ের জ্ঞানের পাশাপাশি ন্যায়-অন্যায়, দায়িত্ববোধ ও মানবিক মূল্যবোধের শিক্ষা দিতে হবে।
তিনি আরও বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার বিষয়ে কোনো ধরনের অবহেলা করা যাবে না। স্বাস্থ্যসম্মত পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা নিশ্চিত করার পাশাপাশি বাল্যবিবাহ প্রতিরোধেও শিক্ষকদের সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হবে। এ বিষয়ে অভিভাবকদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ ও সচেতনতা কার্যক্রম চালানোর পরামর্শ দেন তিনি।
অর্থনৈতিক সমস্যার কারণে কোনো শিক্ষার্থীর লেখাপড়া বন্ধ হয়ে যাবে না বলেও আশ্বাস দেন প্রতিমন্ত্রী। কোনো শিক্ষার্থী আর্থিক সংকটে পড়লে তার শিক্ষাজীবন অব্যাহত রাখতে সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার কথা জানান তিনি।
এ সময় রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রভাব বিস্তার বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না করার জন্য নিজ দলের নেতাকর্মীদেরও সতর্ক করেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, কোনো ব্যক্তি দলীয় পরিচয়ের প্রভাব দেখিয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিবেশ নষ্ট করার চেষ্টা করলে তাকে ছাড় দেওয়া হবে না। এ ধরনের ঘটনায় প্রথমে সাংগঠনিক ব্যবস্থা এবং প্রয়োজন হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় জেলা পরিষদের প্রশাসক দেলোয়ার হোসেন খোকনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।



