প্রকাশিত: আগস্ট ৩০, ২০২৬, ০৬:৪৭ পিএম
পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলায় দেড় বছরের এক শিশুকে এক লাখ টাকার বিনিময়ে বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তার বাবার বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, সন্তানকে বিক্রি করে পাওয়া ওই টাকা দিয়ে অভিযুক্ত বাবা একটি পুরোনো আইফোন কিনেছেন। ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর শিশুটিকে উদ্ধারে কাজ শুরু করেছে পুলিশ।
শনিবার (২৯ আগস্ট) উপজেলার বেতাগী সানকিপুর ইউনিয়নের বড় গোপালদী গ্রামের মুন্সিবাড়িতে ঘটনাটি ঘটে বলে জানা গেছে। শিশুটির নাম মুসা। এ ঘটনায় তার বাবা মারুফ মুন্সির বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে।
শিশুটির দাদি মাহফুজা বেগম পুলিশকে ঘটনাটি জানান। তিনি বলেন, প্রায় চার বছর আগে তার ছেলে মারুফ ঢাকার সাভারের বৃষ্টি নামের এক তরুণীকে বিয়ে করেন। তাদের সংসারে একটি ছেলে সন্তানের জন্ম হয়। তবে সম্প্রতি স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিরোধ দেখা দিলে প্রায় এক মাস আগে বৃষ্টি বাবার বাড়িতে চলে যান। এরপর মুসা দাদির কাছেই থাকত।
মাহফুজা বেগমের ভাষ্য অনুযায়ী, শুক্রবার সন্ধ্যার কিছু আগে মারুফ বাড়িতে আসেন। পরদিন সকালে তিনি মুসাকে গোসল করিয়ে জামা-প্যান্ট পরিয়ে দিতে দাদিকে বলেন। পরে শিশুটিকে বাজারে ঘুরতে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হন। কিন্তু সন্ধ্যা হয়ে গেলেও বাবা-ছেলে কেউ বাড়িতে না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন এবং শিশুটির খোঁজ শুরু করেন।
পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন, মারুফ ঢাকায় তার মামার বাসায় অবস্থান করছেন। পরে তার মামা বাহাদুর মিয়া বিষয়টি জানতে চাইলে মারুফের কাছ থেকে শিশুটিকে এক লাখ টাকার বিনিময়ে অন্যের কাছে দেওয়ার কথা জানতে পারেন বলে পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।
শিশুটির দাদি আরও অভিযোগ করেন, ইমরান হোসেন নামের এক ব্যক্তির কাছে লিখিতভাবে মুসাকে এক লাখ টাকার বিনিময়ে দিয়ে দেওয়া হয়েছে। সন্তানকে দেওয়ার বিনিময়ে পাওয়া অর্থ দিয়ে মারুফ একটি পুরোনো আইফোন কিনেছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি। নাতিকে দ্রুত উদ্ধার করে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিতে পুলিশের সহযোগিতা চান মাহফুজা বেগম।
অন্যদিকে, শিশুটিকে নেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন বলে জানা গেছে ইমরান হোসেন। তার দাবি, তার শ্বশুরের পাঁচজন মেয়ে থাকলেও কোনো ছেলে সন্তান নেই। বিষয়টি নিয়ে শ্বশুরের সঙ্গে আলোচনা করার পর মারুফের কাছ থেকে লিখিতভাবে এক লাখ টাকার বিনিময়ে শিশুটিকে নেওয়া হয়েছে।
তবে শিশুটিকে হস্তান্তরের বিষয়টি কীভাবে এবং কোন আইনি প্রক্রিয়ায় হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানা যায়নি। শিশুকে অর্থের বিনিময়ে অন্যের কাছে দেওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে এলাকায়ও নানা আলোচনা তৈরি হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে মারুফ মুন্সির বক্তব্য জানতে তার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। ফলে তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
দশমিনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আতিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, শিশুটিকে বিক্রির অভিযোগ পাওয়ার পরই তাকে উদ্ধারে পুলিশ কাজ শুরু করেছে। শিশুটিকে উদ্ধারের পর ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ ঘটনায় শিশুটির নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। অভিযোগের সত্যতা যাচাই, শিশুটিকে নিরাপদে উদ্ধার এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি এখন পুলিশের তদন্তের ওপর নির্ভর করছে।



