প্রকাশিত: আগস্ট ৩১, ২০২৬, ০৪:৫০ পিএম
শিক্ষকদের দায়িত্ব, মর্যাদা ও অবদানের যথাযথ মূল্যায়ন করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। একই সঙ্গে শিক্ষকদের পেশাগত মর্যাদা অক্ষুণ্ন রেখে দাবি-দাওয়া উপস্থাপনের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। তার মতে, দলবদ্ধ হয়ে কিংবা এমন কোনো আন্দোলন করা উচিত নয়, যাতে শিক্ষকদের সম্মান ক্ষুণ্ন হয়।
সোমবার (৩১ আগস্ট) দিনাজপুর জেলা শিল্পকলা একাডেমির মিলনায়তনে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের নিয়ে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিশুদের জন্য খাদ্য সরবরাহ কর্মসূচির আওতায় প্রধান শিক্ষকদের পরিচিতিমূলক প্রশিক্ষণ এবং প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়ন নিয়ে সভাটির আয়োজন করা হয়।
ববি হাজ্জাজ বলেন, বিদ্যালয়ের উন্নয়নে শুধু শিক্ষক বা শিক্ষা বিভাগের ওপর নির্ভর করলে হবে না। একটি বিদ্যালয়কে এগিয়ে নিতে স্থানীয় জনগণকেও সম্পৃক্ত করা প্রয়োজন। কিন্তু দেশের অনেক এলাকায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সঙ্গে স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রত্যাশিত যোগাযোগ নেই। অথচ একই এলাকার বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমের সঙ্গে অভিভাবক ও এলাকাবাসীর সম্পৃক্ততা তুলনামূলক বেশি দেখা যায়।
তিনি বলেন, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থীদেরও তাদের পুরোনো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত করার উদ্যোগ নিতে হবে। সাবেক শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের বিদ্যালয়ের বিভিন্ন কার্যক্রমে যুক্ত করা গেলে প্রতিষ্ঠানের প্রতি তাদের দায়িত্ববোধ বাড়বে। একই সঙ্গে বিদ্যালয়ের পরিবেশ, শিক্ষা কার্যক্রম ও অবকাঠামোগত উন্নয়নেও ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।
বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এ কমিটিকে কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের অংশ হিসেবে দেখা উচিত নয়। স্থানীয় মানুষের অংশগ্রহণের ভিত্তিতে পরিচালনা কমিটি গঠন করা হবে। এর প্রধান লক্ষ্য হবে বিদ্যালয়ের সঙ্গে এলাকাবাসীর সম্পর্ক আরও দৃঢ় করা এবং স্থানীয় পর্যায়ে বিদ্যালয়ের প্রতি সবার দায়িত্বশীলতা তৈরি করা।
সভায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিশুদের জন্য চালু থাকা খাদ্য সরবরাহ কর্মসূচি নিয়েও আলোচনা হয়। প্রতিমন্ত্রী জানান, ২০২৭ সালের মধ্যে দেশের সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে এই কর্মসূচির আওতায় আনার লক্ষ্য রয়েছে সরকারের। শিশুদের বিদ্যালয়ে ধরে রাখা এবং বিদ্যালয় থেকে ঝরে পড়ার প্রবণতা কমিয়ে আনার ক্ষেত্রেও এ উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
সভায় উপস্থিত কয়েকজন প্রধান শিক্ষক খাদ্য সরবরাহ কর্মসূচির বাস্তবায়ন নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগ তুলে ধরেন। তাদের অভিযোগ, বিদ্যালয়ে খাবার সরবরাহের ক্ষেত্রে অনেক সময় নিম্নমানের পণ্য দেওয়া হচ্ছে। কোথাও ছোট আকারের কলা বা অপরিপক্ব কলা সরবরাহ করা হচ্ছে। আবার ডিমের আকারেও অসামঞ্জস্য রয়েছে এবং যথাযথভাবে সিদ্ধ না হওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
প্রধান শিক্ষকেরা আরও অভিযোগ করেন, খাবার সরবরাহকারী ঠিকাদারদের কেউ কেউ শিক্ষকদের মতামতকে গুরুত্ব দেন না। কোনো বিষয়ে আপত্তি জানালে প্রভাবশালী পরিচয় দেখিয়ে শিক্ষকদের ওপর চাপ সৃষ্টি করার অভিযোগও করেন তারা। ফলে বিদ্যালয়ের শিশুদের জন্য নির্ধারিত খাবারের মান নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ছে বলে তারা জানান।
শিক্ষকদের এসব অভিযোগ মনোযোগ দিয়ে শোনেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বিষয়গুলো খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন। শিশুদের জন্য নির্ধারিত খাবারের মান, পরিমাণ ও সরবরাহব্যবস্থা যথাযথ রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
সভায় দিনাজপুরের জেলা প্রশাসক রফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, খাদ্য সরবরাহ কর্মসূচির দায়িত্বশীল কর্মকর্তা, মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাসহ জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।
মতবিনিময় সভায় প্রাথমিক শিক্ষার গুণগত মান বাড়ানো, বিদ্যালয়ের সঙ্গে স্থানীয় জনগণের সম্পৃক্ততা বৃদ্ধি, শিশুদের বিদ্যালয়মুখী রাখা এবং খাদ্য সরবরাহ কর্মসূচির মান নিশ্চিত করার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়নে শিক্ষক, অভিভাবক ও স্থানীয় জনগণের সম্মিলিত ভূমিকার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়।



