প্রকাশিত: আগস্ট ৩১, ২০২৬, ০৫:৪১ পিএম
সিলেটের জকিগঞ্জে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে এক যুবকের মৃত্যুর খবর শুনে অসুস্থ হয়ে পড়ার পর তার বাবারও মৃত্যু হয়েছে। মাত্র দেড় ঘণ্টার ব্যবধানে বাবা ও ছেলের মৃত্যুতে পরিবারটিতে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। মর্মান্তিক এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যেও শোকের সৃষ্টি হয়েছে।
নিহতরা হলেন উপজেলার বারহাল ইউনিয়নের খিলগ্রাম এলাকার মাসুক আহমেদ (৩৮) ও তার বাবা আবদুল লতিফ (৬৭)। মাসুক সম্প্রতি বিয়ে করেছিলেন। নতুন সংসার নিয়ে স্বপ্ন দেখার মধ্যেই আকস্মিকভাবে তার মৃত্যু হয়। পরে ছেলের মৃত্যুর সংবাদ পেয়ে অসুস্থ হয়ে প্রাণ হারান বৃদ্ধ বাবা।
পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছ থেকে জানা গেছে, মাসুক শাহগলী বাসস্ট্যান্ড এলাকার একটি বৈদ্যুতিক বাতি ও সরঞ্জাম বিক্রির প্রতিষ্ঠানে কর্মচারী হিসেবে কাজ করতেন। রোববার সন্ধ্যার দিকে কর্মস্থলে দায়িত্ব পালনকালে বিদ্যুতের সংস্পর্শে আসেন তিনি। এতে গুরুতর আহত হলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয় বলে পরিবারের সদস্যরা জানান।
মাসুকের মৃত্যুর খবর কিছুক্ষণ পর তার বাড়িতে পৌঁছায়। ছেলের আকস্মিক মৃত্যুর সংবাদ শুনে বাবা আবদুল লতিফ মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন এবং হঠাৎ অসুস্থ হয়ে যান। পরিবারের সদস্যরা তাকে দ্রুত সামলে নেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে শেষ পর্যন্ত রাত আটটার দিকে তারও মৃত্যু হয়।
স্বজনদের ভাষ্য, ছেলে ও বাবার এমন আকস্মিক মৃত্যু কেউই মেনে নিতে পারছেন না। মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে পরিবারের দুই সদস্যকে হারিয়ে স্বজনেরা শোকাহত হয়ে পড়েছেন। বিশেষ করে সদ্য বিবাহিত মাসুকের মৃত্যুতে তার স্ত্রী ও পরিবারের অন্য সদস্যদের মধ্যে নেমে এসেছে গভীর শোক।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও বাসিন্দারা জানান, মাসুকের মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর তার বাবা অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। পরে তার মৃত্যু হয়। বিষয়টি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে আশপাশের মানুষ ওই পরিবারের পাশে দাঁড়ান।
জকিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মুহাম্মদ আবদুর রাজ্জাক জানান, বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মাসুক আহমেদের মৃত্যুর পর পরিবারের পক্ষ থেকে মরদেহ ময়নাতদন্ত ছাড়া দাফনের জন্য আবেদন করা হয়েছিল। প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
পরে সোমবার দুপুরে বাবা ও ছেলের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে তাদের পাশাপাশি দাফন করা হয়েছে।
একই পরিবারের দুই সদস্যের এমন আকস্মিক মৃত্যুতে পুরো এলাকায় শোকের আবহ তৈরি হয়েছে। স্বজনদের আহাজারি আর কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ। স্থানীয়রা ঘটনাটিকে অত্যন্ত হৃদয়বিদারক ও মর্মান্তিক বলে উল্লেখ করেছেন।



