প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ২, ২০২৬, ১১:৩০ এএম
সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে একটি তালাবদ্ধ ঘর থেকে আছিয়া বেগম নামে ষাটোর্ধ্ব এক নারীর অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। চার দিন ধরে ওই নারী পরিবারের সদস্য ও স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগহীন ছিলেন। সোমবার রাতে ঘর থেকে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের সন্দেহ হয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ঘরের তালা ভেঙে মরদেহটি উদ্ধার করে।
সোমবার (৩১ আগস্ট) রাত সাড়ে ৯টার দিকে জগন্নাথপুর পৌরসভার ইনাতনগর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত আছিয়া বেগম ওই এলাকার মৃত খালিক মিয়ার স্ত্রী। স্বামী মারা যাওয়ার পর একমাত্র মেয়ের বিয়ে হয়ে গেলে তিনি নিজ বাড়িতে একাই বসবাস করতেন।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার চিকিৎসার জন্য আছিয়া বেগম জেলা শহর সুনামগঞ্জে গিয়েছিলেন। সেদিন বিকেলের পর থেকে তার সঙ্গে পরিবারের সদস্যদের আর কোনো যোগাযোগ হয়নি। স্বজনরা বিভিন্নভাবে তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও কোনো সাড়া পাননি। এ অবস্থায় চার দিন পর সোমবার রাতে তার বাড়ির পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় স্থানীয়রা ঘর থেকে তীব্র দুর্গন্ধ পান। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় তারা পুলিশকে খবর দেন।
খবর পেয়ে জগন্নাথপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে বাড়িটির পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে। পরে ঘরের দরজার তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করলে খাটের ওপর কম্বল জড়ানো অবস্থায় আছিয়া বেগমের মরদেহ দেখতে পায় পুলিশ। দীর্ঘ সময় পড়ে থাকায় মরদেহের বিভিন্ন অংশ পচে অর্ধগলিত হয়ে যায়।
নিহতের মেয়ে কল্পনা বেগম জানান, বৃহস্পতিবার বিকেলের পর থেকে মায়ের সঙ্গে তার কোনো যোগাযোগ ছিল না। মায়ের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করেও সাড়া পাওয়া যায়নি। তিনি একাই বাড়িতে থাকতেন বলে জানান কল্পনা।
কল্পনার স্বামী দিলশাদ মিয়ার দাবি, তার শাশুড়ির সঙ্গে কারও বিরোধ বা শত্রুতা ছিল না। তবে চিকিৎসার জন্য তার কাছে প্রায় ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা ছিল বলে তারা জানতে পেরেছেন। ওই অর্থের কারণে তাকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে বলে সন্দেহ করছেন তারা। তার ভাষ্য, হত্যার পর ঘরটি বাইরে থেকে তালাবদ্ধ করে দেওয়া হয়ে থাকতে পারে।
তবে এটি হত্যা, নাকি অন্য কোনো কারণে ওই নারীর মৃত্যু হয়েছে, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। পুলিশ জানিয়েছে, মরদেহের ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যাবে।
ঘটনাস্থল পরিদর্শনকারী জগন্নাথপুর থানার উপপরিদর্শক মোস্তাফিজুর রহমান জানান, মরদেহের বেশ কিছু অংশ পচে গেছে। প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে।
জগন্নাথপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম বলেন, ঘরটি তালাবদ্ধ অবস্থায় পাওয়া গেছে এবং বাড়িটিতে প্রবেশের জন্য একটি মাত্র দরজা রয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। মৃত্যুর পেছনে কোনো অপরাধের ঘটনা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষে ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন করা সম্ভব হবে বলে আশা করছে পুলিশ।



