প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ৪, ২০২৬, ০৬:৩০ পিএম
মাগুরার শ্রীপুরে গুরুত্বপূর্ণ বাইপাস সড়কের নির্মাণকাজ এগিয়ে চললেও কয়েকটি বৈদ্যুতিক খুঁটি এখন বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। নির্মাণাধীন সড়কের মাঝখানে খুঁটি রেখে কাজ চলায় প্রকল্পের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশে পূর্ণাঙ্গভাবে কাজ করা যাচ্ছে না। খুঁটি সরানোর জন্য সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানকে কয়েক মাস আগে অর্থ দেওয়া হলেও এখনো অপসারণের কার্যক্রম শেষ হয়নি। ফলে একদিকে নির্মাণকাজের গতি কমেছে, অন্যদিকে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে সাধারণ মানুষ ও যানবাহনকে।
শুক্রবার সরেজমিনে দেখা যায়, শ্রীপুর বাইপাস সড়কের বিভিন্ন স্থানে নির্মাণকাজ চলমান রয়েছে। কোথাও সড়কের মাটি ভরাট ও প্রশস্ত করার কাজ এগিয়েছে, আবার কোথাও আংশিক নির্মাণ সম্পন্ন হয়েছে। তবে কয়েকটি স্থানে সড়কের মাঝেই দাঁড়িয়ে রয়েছে বৈদ্যুতিক খুঁটি। এসব খুঁটি না সরানো পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট অংশের নির্মাণকাজ পুরোপুরি সম্পন্ন করা সম্ভব হচ্ছে না।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, একটি উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ দীর্ঘদিন ধরে চললেও খুঁটি অপসারণের মতো পূর্বনির্ধারিত কাজ শেষ না হওয়ায় পুরো কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর নির্মাণাধীন সড়ক দিয়ে চলাচলের সময় দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হয়। সড়কের মাঝখানে থাকা বৈদ্যুতিক খুঁটিগুলো পথচারী ও চালকদের জন্যও বাড়তি ঝুঁকি তৈরি করছে।
সড়ক বিভাগের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সড়ক প্রশস্তকরণ ও উন্নয়নকাজ নির্বিঘ্ন করতে বিদ্যুতের খুঁটি সরানোর প্রয়োজন ছিল। এ জন্য গত জুন মাসে সংশ্লিষ্ট দুই প্রতিষ্ঠানের কাছে অর্থ পরিশোধ করা হয়। এর মধ্যে পশ্চিমাঞ্চল বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানিকে প্রায় ১৫ লাখ টাকা এবং মাগুরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিকে প্রায় ৫ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে।
তবে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বর্তমানে শ্রীপুর বাইপাস সড়কে তাদের মালিকানাধীন কোনো খুঁটি নেই। তাদের আওতাধীন ১০টি খুঁটি অপসারণের কাজ আগেই শেষ হয়েছে। এসব খুঁটি সরাতে মোট ৪ লাখ ২৩ হাজার ৬৮৫ টাকা ব্যয় হয়েছে বলেও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা জানিয়েছেন।
অন্যদিকে, পশ্চিমাঞ্চল বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, খুঁটি স্থানান্তরের জন্য প্রয়োজনীয় মালামাল সংগ্রহের প্রক্রিয়া চলছে। তবে এখনো দরপত্র আহ্বান করা হয়নি। নিয়ম অনুযায়ী দরপত্রের মাধ্যমে ঠিকাদার নিয়োগের পরই খুঁটি অপসারণের মূল কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হবে।
এ অবস্থায় সড়ক নির্মাণকারী কর্তৃপক্ষ ও বিদ্যুৎ বিভাগের কাজের মধ্যে সমন্বয়ের অভাব স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। সড়কের উন্নয়নকাজ শুরুর আগে বিদ্যুতের অবকাঠামো সরিয়ে নেওয়ার বিষয়টি সমাধান হওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে তা হয়নি। ফলে নির্মাণকাজের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ এখন কার্যত অপেক্ষমাণ অবস্থায় রয়েছে।
মাগুরা সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী জানিয়েছেন, খুঁটি স্থানান্তরের জন্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে নির্ধারিত অর্থ আগেই দেওয়া হয়েছে। কিন্তু দীর্ঘ সময় পার হয়ে গেলেও খুঁটি সরানোর কার্যক্রম শুরু না হওয়ায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাজ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এর প্রভাব পুরো প্রকল্পের সময়সূচির ওপর পড়তে পারে বলেও আশঙ্কা রয়েছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, একটি বাইপাস সড়ক চালু হলে শ্রীপুরের যানজট কমার পাশাপাশি যোগাযোগব্যবস্থায়ও গতি আসবে। ব্যবসা-বাণিজ্য, পণ্য পরিবহন ও সাধারণ মানুষের যাতায়াতে এর সুফল পাওয়ার কথা। কিন্তু নির্মাণের গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে এসে বিদ্যুতের খুঁটি অপসারণ নিয়ে জটিলতা তৈরি হওয়ায় সেই সুফল পেতে অপেক্ষা করতে হচ্ছে।
তাদের দাবি, সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের মধ্যে দ্রুত সমন্বয় করে বৈদ্যুতিক খুঁটিগুলো সরিয়ে নেওয়া হোক। একই সঙ্গে যেসব স্থানে নির্মাণকাজ আটকে আছে, সেসব অংশে দ্রুত কাজ শুরু করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বাইপাস সড়কটি চালু করার উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।
শ্রীপুরবাসীর প্রত্যাশা, প্রশাসনিক জটিলতা ও আন্তঃপ্রতিষ্ঠানিক সমন্বয়হীনতা কাটিয়ে দ্রুত সমস্যাটির সমাধান হবে। সড়কের মাঝখানে থাকা বৈদ্যুতিক খুঁটি সরানো গেলে নির্মাণকাজের গতি বাড়বে এবং দীর্ঘদিনের কাঙ্ক্ষিত বাইপাস সড়কের সুফলও দ্রুত ভোগ করতে পারবেন স্থানীয় মানুষ।



