প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ৫, ২০২৬, ০১:০৯ পিএম
মাগুরার মহম্মদপুরে বিদ্যুতের খুঁটি থেকে ট্রান্সফরমার খুলে নেওয়ার চেষ্টার সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে শাহিন মিয়া নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করছে পুলিশ। শনিবার সকালে উপজেলার বড়রিয়া গ্রামের কানাবিল মাঠের একটি ধানক্ষেত থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত শাহিনের বয়স ৩৬ বছর। তিনি পলাশবাড়িয়া গ্রামের নিজামুদ্দিনের ছেলে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শনিবার সকালে কয়েকজন কৃষক নিজেদের জমিতে কাজ করতে যাওয়ার সময় বিদ্যুতের খুঁটির নিচে এক যুবকের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন। বিষয়টি জানাজানি হলে আশপাশের লোকজন সেখানে জড়ো হন। পরে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেন। খবর পেয়ে মহম্মদপুর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে।
ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশ দেখতে পায়, বিদ্যুতের খুঁটিতে থাকা ট্রান্সফরমারটি স্বাভাবিক অবস্থায় নেই। সেটি খোলা অবস্থায় ঝুলছিল। মরদেহটি খুঁটির একেবারে নিচে পড়ে থাকায় প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, রাতের কোনো একসময় শাহিন সেখানে গিয়ে ট্রান্সফরমারটি খুলে নেওয়ার চেষ্টা করেন। ওই সময় বিদ্যুতের সংস্পর্শে এসে তিনি মারাত্মকভাবে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি শুক্রবার দিবাগত রাতের কোনো একসময় ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। রাতের অন্ধকারে ট্রান্সফরমার খোলার চেষ্টা করার সময় অসাবধানতাবশত বিদ্যুতের সংযোগে স্পর্শ লাগতে পারে। তবে ঠিক কীভাবে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে, তা তদন্তের পর আরও স্পষ্ট হবে।
মহম্মদপুর থানার উপপরিদর্শক কামরুজ্জামান জানান, প্রাথমিক তদন্তে ট্রান্সফরমার চুরির চেষ্টা করতে গিয়ে শাহিন বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা গেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। সকালে ধানক্ষেতের মালিক মরদেহটি দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেন। পরে ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
তিনি আরও জানান, নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মাগুরা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়া গেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে আরও নিশ্চিত হওয়া যাবে।
এদিকে, ধানক্ষেতের মধ্যে বিদ্যুতের খুঁটির নিচে যুবকের মরদেহ পড়ে থাকার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ সরঞ্জাম চুরির প্রবণতা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। পুলিশ ঘটনাটি খতিয়ে দেখছে এবং শাহিন একাই সেখানে গিয়েছিলেন, নাকি তার সঙ্গে অন্য কেউ ছিল, সেটিও তদন্ত করা হচ্ছে।



