রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে থেকে লাশ উদ্ধার

ইসমাইলের লুঙ্গির কোচে থাকা টাকা দেখেই হত্যার পরিকল্পনা সুপারভাইজারের

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ৬, ২০২৬, ০২:৪৭ পিএম

ইসমাইলের লুঙ্গির কোচে থাকা টাকা দেখেই হত্যার পরিকল্পনা সুপারভাইজারের

ছবিঃ সংগৃহীত

রাজধানীর বনানীতে ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে থেকে ইসমাইল হোসেন (৫০) নামের এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধারের ঘটনায় বাসচালক, চালকের সহকারী ও তত্ত্বাবধায়কসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, বাসভাড়া দেওয়ার সময় ইসমাইলের লুঙ্গির কোচে থাকা টাকা দেখতে পান বাসের তত্ত্বাবধায়ক। এরপর তার কাছে থাকা অর্থ ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে হত্যার পরিকল্পনা করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন বাসচালক সোহেল রানা (৪১), বাসের তত্ত্বাবধায়ক সাজু ওরফে লিমন (২৬) এবং সহকারী মো. মনির হোসেন (১৯)। তারা ‘রাজ ক্ল্যাসিক’ পরিবহনের একটি বাসের কর্মী।

রোববার রাজধানীর মিন্টো রোডে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পুলিশের যুগ্ম কমিশনার মো. ফারুক হোসেন এসব তথ্য জানান।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত শুক্রবার সকাল পৌনে ৯টার দিকে বনানী থানার আওতাধীন এয়ারপোর্টমুখী এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের স্টেডিয়ামসংলগ্ন এলাকায় একজনের লাশ পড়ে থাকার খবর পায় পুলিশ। ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশটি উদ্ধার করা হয়। নিহতের মুখ ও দুই হাত আঠালো ফিতা দিয়ে বাঁধা ছিল। তার গলায়ও আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়।

পরে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। আঙুলের ছাপের মাধ্যমে নিহতের পরিচয় শনাক্ত করে পুলিশ। পরে পরিবারের সদস্যরা হাসপাতালে গিয়ে লাশ দেখে ইসমাইল হোসেনকে শনাক্ত করেন। এ ঘটনায় নিহতের ছেলে বাদী হয়ে বনানী থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।

পুলিশ জানায়, ইসমাইল জামালপুরের নিজ গ্রাম থেকে জমি বিক্রির পাঁচ লাখ টাকা নিয়ে গাজীপুরের কাশিমপুরে যাচ্ছিলেন। তার ছেলে হাসান জীরানী বাসস্ট্যান্ডে বাবার জন্য অপেক্ষা করছিলেন। নির্ধারিত সময়েও বাবা না পৌঁছানো এবং তার মুঠোফোন বন্ধ পাওয়ায় তিনি উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন।

লাশ উদ্ধারের পর হত্যার কারণ ও জড়িতদের শনাক্ত করতে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে এবং আশপাশের এলাকার বিভিন্ন নজরদারি ক্যামেরার দৃশ্য পর্যালোচনা শুরু করে পুলিশ। একপর্যায়ে একটি বাসের চলাচল পুলিশের কাছে সন্দেহজনক মনে হয়। পরে অভিযান চালিয়ে মহাখালী বাসস্ট্যান্ড থেকে রাজ ক্ল্যাসিক পরিবহনের বাসটি জব্দ করা হয়।

পুলিশের ভাষ্য, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, শুক্রবার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে জামালপুরের দিকপাই বাসস্ট্যান্ড থেকে যাত্রী হিসেবে ওই বাসে ওঠেন ইসমাইল। কিছুক্ষণ পর বাসের তত্ত্বাবধায়ক তার কাছে ভাড়া চাইলে ইসমাইল লুঙ্গির কোচ থেকে টাকা বের করে ভাড়া পরিশোধ করেন। তখন তার কাছে থাকা বেশ কিছু টাকা তত্ত্বাবধায়কের নজরে পড়ে।

পরে বিষয়টি বাসচালককে জানানো হয়। ইসমাইলের কাছে বিপুল পরিমাণ টাকা রয়েছে—এমন ধারণা থেকে তাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ। এরপর বাসচালক ও তত্ত্বাবধায়ক মিলে তার টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করেন বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে উঠে এসেছে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, অন্য যাত্রীদের নির্ধারিত বিভিন্ন স্থানে নামিয়ে দেওয়া হলেও ইসমাইলকে নামানো হয়নি। তাকে ঘুমিয়ে পড়তে বলা হয় এবং গন্তব্যে পৌঁছানোর পর ডেকে দেওয়া হবে বলে জানানো হয়। একপর্যায়ে তিনি ঘুমিয়ে পড়লে বাসের কর্মীরা তাকে অন্য যাত্রীদের থেকে আলাদা অবস্থায় রেখে দেন।

পুলিশের দাবি, পরে বাসের তত্ত্বাবধায়ক ও সহকারী মিলে ইসমাইলের মুখ ও দুই হাত আঠালো ফিতা দিয়ে বেঁধে ফেলেন। এরপর তার গলায় গামছা পেঁচিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করা হয় বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে।

ইসমাইলের মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর বাসটি এয়ারপোর্ট এলাকা থেকে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে ওঠে। বনানীর দিকে যাওয়ার পর আবার ঘুরে এয়ারপোর্টমুখী হওয়ার সময় এক্সপ্রেসওয়ের ওপর ইসমাইলের লাশ ফেলে রেখে আসা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, নিহতের কাছে জমি বিক্রির পাঁচ লাখ টাকা ছিল। তবে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা জিজ্ঞাসাবাদে পুরো টাকা নেওয়ার কথা স্বীকার করেননি। তারা প্রায় আড়াই লাখ টাকা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।

পুলিশের যুগ্ম কমিশনার মো. ফারুক হোসেন বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার তিনজনই হত্যাকাণ্ডে নিজেদের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন। ঘটনার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত কি না এবং ছিনিয়ে নেওয়া অর্থের প্রকৃত পরিমাণ কত ছিল, তা জানতে তাদের আরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

ঘটনার পর থেকে বাসটির চলাচল, যাত্রী ওঠানামা এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। হত্যাকাণ্ডের পুরো ঘটনা ও এর সঙ্গে জড়িতদের বিষয়ে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!