রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

কমলনগর ও রামগতিতে প্রকাশ্যে মাটি লুট, নীরব প্রশাসন

সালমান ইমন

প্রকাশিত: জানুয়ারি ১৪, ২০২৬, ০২:৩৯ পিএম

কমলনগর ও রামগতিতে প্রকাশ্যে মাটি লুট, নীরব প্রশাসন

ছবি: প্রতিনিধি

লক্ষ্মীপুর জেলার কমলনগর ও রামগতি উপজেলা জুড়ে দিনের আলো থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলছে অবাধ ও বেপরোয়া মাটি কাটার কার্যক্রম। প্রশাসনের রহস্যজনক নীরবতা ও নজরদারির অভাবে একাধিক অবৈধ ইটভাটা মালিক ভেকু মেশিন নামিয়ে নির্বিঘ্নে কৃষিজমির উর্বর টপসয়েল তুলে নিচ্ছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, কমলনগর ও রামগতি উপজেলার একাধিক ইউনিয়নের ফসলি জমিতে রাতের আঁধারে প্রকাশ্যেই মাটি কাটা হচ্ছে। 

স্থানীয়রা জানান, ভেকু মেশিন নামিয়ে ৮–১০ ফুট গভীর করে জমি খুঁড়ে মাটি নেওয়া হচ্ছে, যা সরাসরি নিকটবর্তী ও দূরবর্তী অবৈধ ইটভাটায় সরবরাহ করা হয়। প্রতিদিন শতাধিক ট্রাক ও পিকআপে করে এই মাটি পরিবহন করা হলেও সংশ্লিষ্ট কোনো দপ্তরের অনুমতিপত্র বা পরিবেশ ছাড়পত্র দেখা যায় না।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী, কৃষিজমির ওপরের ৬–১২ ইঞ্চি মাটি বা টপসয়েলই হলো ফসল উৎপাদনের মূল ভিত্তি। এই স্তর অপসারণের ফলে জমির জৈব গুণাগুণ স্থায়ীভাবে নষ্ট হয়ে যায়। ধান, সবজি, ডাল ও তেলজাতীয় ফসল উৎপাদন অর্ধেকে নেমে আসে, অনেক জমি স্থায়ীভাবে অনাবাদি বা পরিত্যক্ত হয়ে পড়ে, অতিরিক্ত সার ব্যবহার করেও কাঙ্ক্ষিত ফলন পাওয়া যায় না, কৃষকের ঋণ বেড়ে গিয়ে সামাজিক ও অর্থনৈতিক সংকট তৈরি হয়।

একজন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক বলেন, জমি কেটে নিয়ে গেছে, এখন সেখানে পানি জমে থাকে, ধান হয় না। ক্ষতিপূরণ তো দূরের কথা, কেউ খোঁজও নেয় না।

বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ এবং ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন ২০১৩ অনুযায়ী কৃষিজমি থেকে মাটি কাটা ও অবৈধ ইটভাটা পরিচালনা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এছাড়া পরিবেশগত ছাড়পত্র ছাড়া ভেকু মেশিন ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ।

তবুও অনুসন্ধানে দেখা যায় পরিবেশ অধিদপ্তরের কোনো নিয়মিত তদারকি নেই, ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান একেবারেই অনুপস্থিত, সংশ্লিষ্ট ভূমি অফিস ও স্থানীয় প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, মাটি কাটার খবর বারবার জানানো হলেও অজ্ঞাত কারণে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। অনেকের দাবি, কিছু প্রভাবশালী ইটভাটা মালিক স্থানীয়ভাবে “ম্যানেজ” করেই বছরের পর বছর এই কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক স্থানীয় ব্যক্তি বলেন, ভেকু নামানোর আগে থেকেই সবাই জানে, তবুও কেউ আসে না।

মাটি পরিবহনে ব্যবহৃত ভারী ট্রাক ও পিকআপের অবাধ চলাচলে গ্রামীণ সড়কগুলো ভেঙে পড়ছে। এতে স্কুলগামী শিশুদের প্রতিদিন জীবনঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে, সড়ক দুর্ঘটনার আশঙ্কা কয়েকগুণ বেড়েছে, রাতের বেলায় শব্দদূষণে বৃদ্ধ ও রোগীরা চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন।

এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তারা মন্তব্য দিতে রাজি হননি। কেউ কেউ বিষয়টি “খোঁজ নেওয়া হবে” বলে দায় সেরেছেন।

স্থানীয়রা অবিলম্বে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে অভিযান পরিচালনা করে অবৈধ মাটি কাটা বন্ধ, সকল অবৈধ ইটভাটা উচ্ছেদ এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!