রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

সবার চেহারাই সার্জারি করা শুধুমাত্র পরীমনি ছাড়া : তমা মির্জা

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: মে ১৬, ২০২৬, ০২:৩৮ পিএম

সবার চেহারাই সার্জারি করা শুধুমাত্র পরীমনি ছাড়া : তমা মির্জা

ফাইল ছবি

চলচ্চিত্রাঙ্গন কিংবা বিনোদনজগতে তারকাদের সৌন্দর্য, চেহারার পরিবর্তন এবং বয়স ধরে রাখার নানা কৌশল নিয়ে আলোচনা বহুদিনের। আলোচিত ব্যক্তিদের রূপচর্চা, শারীরিক পরিবর্তন কিংবা বাহ্যিক সৌন্দর্য ধরে রাখতে নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়ে দর্শক-ভক্তদের আগ্রহও কম নয়। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রায়ই বিভিন্ন অভিনেত্রী ও অভিনেতার চেহারার পরিবর্তন নিয়ে আলোচনা, সমালোচনা এবং নানা ধরনের মন্তব্য দেখা যায়।

এই বাস্তবতাকে সামনে এনে সম্প্রতি খোলামেলা বক্তব্য দিয়েছেন জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা তমা মির্জা। এক অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে তিনি বর্তমান সময়ের অভিনয়শিল্পীদের সৌন্দর্যচর্চা, মুখাবয়বে পরিবর্তন এবং বিভিন্ন সৌন্দর্যবর্ধক পদ্ধতি নিয়ে নিজের দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করেন। তার বক্তব্যের পর বিনোদন অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

আলোচনার সময় তমা মির্জা বলেন, বর্তমান সময়ে যেসব অভিনেত্রীর সিনেমা মুক্তি পাচ্ছে, তাদের মধ্যে অধিকাংশই বাহ্যিক সৌন্দর্য ধরে রাখতে কিংবা মুখাবয়বে পরিবর্তন আনতে বিভিন্ন পদ্ধতির সহায়তা নিয়েছেন বলে তার ধারণা। তবে তিনি একটি নাম আলাদাভাবে উল্লেখ করে বলেন, তার চোখে কিছু মানুষ এখনো স্বাভাবিক সৌন্দর্য ধরে রেখেছেন।

অভিনেত্রীর মতে, বাহ্যিক সৌন্দর্য ধরে রাখতে কিংবা নিজের আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর জন্য কেউ যদি কোনো পদক্ষেপ নেন, সেটিকে নেতিবাচকভাবে দেখার কারণ নেই। বরং এটি ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের বিষয়। একজন মানুষ নিজের চেহারা বা শারীরিক গঠনে কী পরিবর্তন আনবেন, সেটি তার ব্যক্তিগত স্বাধীনতার অংশ হওয়া উচিত বলেও মনে করেন তিনি।

তবে একটি জায়গায় এসে নিজের আপত্তির কথা স্পষ্ট করেছেন তমা মির্জা। তার ভাষায়, যারা বিভিন্ন পদ্ধতির সহায়তা নিয়েও বিষয়টি সম্পূর্ণ অস্বীকার করেন কিংবা আড়াল করার চেষ্টা করেন, সেই অবস্থানটি তার ভালো লাগে না। তিনি মনে করেন, সময়ের সঙ্গে মানুষের চেহারায় স্বাভাবিক পরিবর্তন আসে—এটি স্বাভাবিক। কিন্তু কিছু পরিবর্তন এমন থাকে, যা সহজেই বোঝা যায়। তাই বিষয়টি নিয়ে অস্বীকারের বদলে খোলামেলা থাকা বেশি গ্রহণযোগ্য।

নিজের ক্ষেত্রেও পরিবর্তনের বিষয়টি স্বীকার করেন তমা মির্জা। তিনি জানান, বহু বছর আগের নিজের চেহারা এবং বর্তমান সময়ের চেহারার মধ্যে পার্থক্য রয়েছে, যা যে কেউ সহজেই বুঝতে পারবেন। তবে বয়স, অভিজ্ঞতা এবং সময়ের প্রভাবে যে স্বাভাবিক পরিবর্তন আসে, সেটিকেও গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।

একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, সৌন্দর্যচর্চা এখন শুধু নারীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। বর্তমান সময়ে পুরুষরাও নিজেদের চেহারা, ত্বক কিংবা ব্যক্তিত্ব আকর্ষণীয় করে তুলতে বিভিন্ন ধরনের পরিচর্যা গ্রহণ করছেন। ফলে এটি এখন বিনোদন অঙ্গনের বাইরেও সাধারণ সামাজিক বাস্তবতার অংশ হয়ে উঠেছে।

বিনোদনজগতের সঙ্গে যুক্ত অনেকেই মনে করেন, দর্শকের সামনে সবসময় আকর্ষণীয়ভাবে উপস্থিত থাকার একটি চাপ থাকে তারকাদের ওপর। ক্যামেরার সামনে দীর্ঘ সময় কাজ করা, চরিত্র অনুযায়ী নিজেকে উপস্থাপন করা এবং দর্শকের প্রত্যাশা পূরণ করতে গিয়ে অনেকে নিজেদের বাহ্যিক সৌন্দর্যের দিকেও বাড়তি মনোযোগ দেন। এ কারণে সময়ের সঙ্গে সৌন্দর্যচর্চার ধরনও বদলেছে।

তবে বিষয়টি নিয়ে সমাজে এখনও দুই ধরনের মত রয়েছে। একদল মনে করেন, নিজের ভালো লাগার জন্য বাহ্যিক পরিবর্তন আনা ব্যক্তিগত অধিকার। অন্যদিকে আরেকটি অংশ মনে করেন, স্বাভাবিক সৌন্দর্যই সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য এবং অতিরিক্ত পরিবর্তন অনেক সময় স্বকীয়তা নষ্ট করে।

তমা মির্জার সাম্প্রতিক বক্তব্য সেই পুরোনো বিতর্ককে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে। বিশেষ করে তিনি যখন বিষয়টি নিয়ে সরাসরি মত দিয়েছেন, তখন অনেকে তার স্পষ্টবাদিতাকে সাহসী পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন। আবার কেউ কেউ মনে করছেন, এমন মন্তব্য বিনোদন অঙ্গনে নতুন বিতর্কেরও জন্ম দিতে পারে।

সব মিলিয়ে তার বক্তব্যের পর সৌন্দর্যচর্চা, বাহ্যিক পরিবর্তন এবং আত্মগ্রহণ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। এখন দেখার বিষয়, বিনোদন অঙ্গনের অন্য তারকারা এ বিষয়ে কী ধরনের প্রতিক্রিয়া জানান।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!