প্রকাশিত: মে ২১, ২০২৬, ০২:২৯ পিএম
দেশে নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বেড়ে চলেছে বলে মন্তব্য করেছেন মডেল ও আইনজীবী পিয়া জান্নাতুল। সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিন ধর্ষণ এবং হত্যার মতো নৃশংস ঘটনার খবর প্রকাশ পাচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সমাজ ধীরে ধীরে এসব ভয়াবহ ঘটনায় অভ্যস্ত হয়ে পড়ছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয়।
বৃহস্পতিবার (২১ মে) নিজের যাচাইকৃত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পাতায় প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় তিনি এ মন্তব্য করেন। ভিডিওতে পিয়া জান্নাতুল নারী ও শিশুদের বিরুদ্ধে সহিংসতার ঘটনার দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার পাশাপাশি এসব অপরাধের পেছনের সামাজিক ও মানসিক কারণ অনুসন্ধানের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি বলেন, কেবল কঠোর শাস্তি দিলেই সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না। অপরাধের শেকড় কোথায় এবং কী কারণে মানুষের মধ্যে এমন ভয়াবহ মানসিকতা তৈরি হচ্ছে, সেটিও গুরুত্বের সঙ্গে বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন। তার মতে, সমাজে নারীর প্রতি বিদ্বেষ, মানসিক বিকার এবং সহিংস আচরণের পেছনে একাধিক কারণ সক্রিয় থাকতে পারে।
ভিডিও বার্তার সঙ্গে দেওয়া বক্তব্যে পিয়া উল্লেখ করেন, প্রতিনিয়ত নারী নির্যাতন ও হত্যার ঘটনা সমাজকে গভীর সংকটের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। তাই শুধু আইনি ব্যবস্থা নয়, মানুষের মানসিকতার পরিবর্তনও জরুরি। বিশেষ করে নারীদের প্রতি সহিংসতা যে মানসিক অবক্ষয় থেকে জন্ম নেয়, সেটি দূর করতে সামাজিক উদ্যোগ বাড়ানোর প্রয়োজন রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, একটি ছোট শিশুর প্রতিও কীভাবে ভয়াবহ সহিংস মনোভাব তৈরি হতে পারে, সেটি নিয়ে রাষ্ট্র ও সমাজকে একসঙ্গে ভাবতে হবে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, শৈশবের মানসিক আঘাত, মাদকাসক্তি, নিয়ন্ত্রণহীন রাগ এবং বিকৃত মানসিকতার প্রভাব অনেক সময় সহিংস অপরাধে রূপ নেয়।
এ কারণে ছেলে শিশুদের ছোটবেলা থেকেই মানসিক স্বাস্থ্য, মানবিক মূল্যবোধ এবং নারীর প্রতি সম্মানবোধ শেখানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। তার মতে, পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং সমাজকে একযোগে সচেতন ভূমিকা পালন করতে হবে, যাতে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম সহিংসতা থেকে দূরে থাকে।
সমাজের বিভিন্ন স্তরে নারী ও শিশু নির্যাতনের সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো নিয়ে যখন উদ্বেগ বাড়ছে, তখন পিয়া জান্নাতুলের এই বক্তব্য সামাজিক মাধ্যমে নতুন আলোচনা তৈরি করেছে। অনেকেই তার বক্তব্যের সঙ্গে একমত পোষণ করে সচেতনতা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তার কথা বলছেন।



