প্রকাশিত: মে ৩০, ২০২৬, ০৯:১৮ পিএম
ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে স্পষ্টভাষী হিসেবেই পরিচিত অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন। নিজের অনুভূতি, সম্পর্ক কিংবা জীবনের অভিজ্ঞতা নিয়ে খোলামেলা বক্তব্য দিতে তিনি কখনো দ্বিধা করেন না। এবার পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে এক বিশেষ আয়োজনে অংশ নিয়ে প্রেম, বিয়ে এবং জীবনের নানা বাস্তবতা নিয়ে অকপটে কথা বলেছেন জনপ্রিয় এই অভিনেত্রী।
অনুষ্ঠানে আলাপচারিতার একপর্যায়ে তার ভবিষ্যৎ সংসারজীবন নিয়ে প্রশ্ন তোলা হলে বাঁধন খোলামেলা উত্তর দেন। তিনি জানান, জীবনের নতুন অধ্যায় শুরু করার ভাবনা তার মধ্যে একসময় ছিল। এমনকি বিয়ের জন্য একজন উপযুক্ত মানুষকেও খুঁজে পেয়েছিলেন বলে ইঙ্গিত দেন। তবে নানা কারণে সেই সম্পর্ক শেষ পর্যন্ত পূর্ণতা পায়নি।
অভিনেত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, শুধু সম্পর্ক থাকলেই হয় না, একজন জীবনসঙ্গী নির্বাচনের ক্ষেত্রে পারস্পরিক বোঝাপড়া, মানসিক সামঞ্জস্য এবং আস্থাও গুরুত্বপূর্ণ। তিনি মনে করেন, বিয়ে এমন একটি সিদ্ধান্ত, যা আবেগের চেয়ে বাস্তবতাকে গুরুত্ব দিয়েই নেওয়া প্রয়োজন।
বাঁধন আরও বলেন, বর্তমান সময়ে এমন কাউকে খুঁজে পাওয়া সহজ নয়, যার সঙ্গে জীবনের দীর্ঘ পথ একসঙ্গে চলার মতো মানসিক প্রস্তুতি ও সমন্বয় থাকে। যদিও জীবনে প্রেমের অভিজ্ঞতা তার ছিল, তবে তা সবসময় কাঙ্ক্ষিত গন্তব্যে পৌঁছায়নি। তিনি ইঙ্গিত দেন, কিছু সম্পর্ক ভালো লাগার জায়গা তৈরি করলেও বিয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর মতো স্থিরতা বা নিশ্চয়তা তৈরি হয়নি।
নিজের অতীত জীবনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে অভিনেত্রী জানান, আগেও বিবাহিত জীবনের মধ্য দিয়ে গেছেন তিনি। সেই অভিজ্ঞতা তাকে আরও সচেতন করেছে। তাই ভবিষ্যতে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে তিনি অনেক বেশি ভেবেচিন্তে এগোতে চান। তার মতে, জীবন থেকে পাওয়া শিক্ষা মানুষকে পরিণত করে এবং ভুল থেকে শিক্ষা নেওয়াটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
আলাপচারিতায় কেবল ব্যক্তিগত সম্পর্ক নয়, ঈদকে ঘিরে নিজের শৈশব স্মৃতির কথাও ভাগ করে নেন এই অভিনেত্রী। তিনি বলেন, ছোটবেলায় কোরবানির ঈদ ছিল পরিবারের সবাইকে নিয়ে আনন্দের সময়। গ্রামের বাড়িতে আত্মীয়স্বজনদের সঙ্গে উৎসবের আমেজ, একসঙ্গে সময় কাটানো এবং পারিবারিক মিলনমেলা ছিল ঈদের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ।
মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরে কাটানো শৈশবের ঈদের স্মৃতি এখনও তার মনে উজ্জ্বল বলে জানান বাঁধন। ব্যস্ত নগরজীবনের বাইরে সেই সময়ের সরলতা, পারিবারিক বন্ধন এবং উৎসবের আন্তরিকতা আজও তাকে আবেগাপ্লুত করে।
ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে তার এমন সরল ও খোলামেলা বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকেই তার স্পষ্টবাদিতার প্রশংসা করছেন। একই সঙ্গে ভক্তদের একাংশ ভবিষ্যতে তাকে নতুনভাবে সুখী জীবনে দেখতে চাওয়ার প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেছেন।



