রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

সামাজিক বার্তায় দর্শকের মন জয় করল ‘বই পোকা’

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: জুন ৯, ২০২৬, ০২:১১ পিএম

সামাজিক বার্তায় দর্শকের মন জয় করল ‘বই পোকা’

ফাইল ছবি

কোরবানির ঈদকে ঘিরে প্রতিবছরের মতো এবারও বিনোদন অঙ্গনে প্রকাশিত হয়েছে অসংখ্য নাটক। তবে সেই ভিড়ের মধ্যেও দর্শকের বিশেষ মনোযোগ কাড়তে সক্ষম হয়েছে ভিন্নধর্মী নাটক ‘বই পোকা’। পারিবারিক আবহ, আবেগঘন সম্পর্ক, সাহিত্যচর্চার গুরুত্ব এবং বর্তমান সময়ের সামাজিক বাস্তবতাকে একসঙ্গে তুলে ধরায় নাটকটি অল্প সময়েই দর্শকের প্রশংসা অর্জন করেছে।

সাম্প্রতিক সময়ের অধিকাংশ নাটকে যেখানে হাস্যরস ও হালকা বিনোদনকেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়, সেখানে ‘বই পোকা’ নির্মিত হয়েছে একেবারে আলাদা ভাবনায়। গল্পের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে বইপড়া, পারিবারিক সম্পর্কের টানাপোড়েন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অতিরিক্ত নির্ভরতার নেতিবাচক প্রভাব। ফলে নাটকটি দর্শকের কাছে শুধু বিনোদনের মাধ্যম হিসেবেই নয়, বরং একটি সচেতনতামূলক বার্তা হিসেবেও জায়গা করে নিয়েছে।

নাটকটির মূল ভাবনা দিয়েছেন আকবর হায়দার মুন্না। চিত্রনাট্য রচনা করেছেন লিমন আহমেদ এবং পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন তপু খান। প্রধান দুটি চরিত্রে অভিনয় করেছেন খায়রুল বাসার ও সাদনিমা বিনতে নোমান। তাদের অভিনয়ের স্বতঃস্ফূর্ততা এবং সংলাপ উপস্থাপন নাটকের আবেগঘন পরিবেশকে আরও প্রাণবন্ত করে তুলেছে বলে মত দিয়েছেন দর্শকদের অনেকেই।

মুক্তির অল্প সময়ের মধ্যেই নাটকটি ব্যাপক সাড়া ফেলে। প্রকাশের মাত্র চার দিনের মধ্যেই প্রায় নয় লাখ দর্শক এটি উপভোগ করেছেন। শুধু দর্শকসংখ্যাই নয়, নাটকটি নিয়ে মন্তব্যের ঘরেও দেখা গেছে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়ার ছড়াছড়ি। অনেকে গল্পের গভীরতা, অভিনয়ের মান এবং নির্মাণশৈলীর প্রশংসা করেছেন।

নির্মাতা তপু খান জানিয়েছেন, নাটকটির মাধ্যমে বর্তমান প্রজন্মের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রতি অতিরিক্ত নির্ভরতার ক্ষতিকর দিক তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে। একই সঙ্গে বই ও সাহিত্যচর্চার প্রতি নতুন প্রজন্মকে আগ্রহী করে তোলার বার্তাও রয়েছে এতে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, নাটক নির্মাণের সময় থেকেই তিনি বিশ্বাস করেছিলেন এটি দর্শকদের ভালো লাগবে, আর প্রচারের পর পাওয়া ইতিবাচক সাড়া তাকে আরও অনুপ্রাণিত করেছে।

গল্পের ভাবনাকারী আকবর হায়দার মুন্নাও মনে করেন, আধুনিক সময়ে মানুষের জীবনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাব অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে। এর কারণে পারিবারিক সম্পর্কের দূরত্ব সৃষ্টি হচ্ছে এবং মানুষ ধীরে ধীরে বই ও সাহিত্য থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। এসব বিষয়কে সামনে আনতেই নাটকটির গল্প নির্মাণ করা হয়েছে বলে তিনি জানান।

অভিনেতা খায়রুল বাসারও নাটকটি নিয়ে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, এটি প্রচলিত ধারার বাইরে এক ব্যতিক্রমী গল্পের কাজ, যেখানে সংলাপ ও চরিত্রগুলো দর্শকের আবেগ স্পর্শ করতে সক্ষম। এমন একটি কাজের অংশ হতে পেরে তিনি আনন্দিত বলেও জানিয়েছেন।

নাটকটিতে আরও অভিনয় করেছেন আজিজুল হাকিম, মুনীরা ইউসুফ মেমী, আব্দুল্লাহ রানা ও রোজি সিদ্দিকী। পাশাপাশি একটি বিশেষ চরিত্রে দেখা গেছে তারিক আনাম খানকে, যার উপস্থিতিও দর্শকের নজর কেড়েছে।

সব মিলিয়ে, ঈদ উপলক্ষে প্রচারিত নাটকের ভিড়ে ‘বই পোকা’ নিজের স্বতন্ত্রতা বজায় রেখে দর্শকের হৃদয়ে বিশেষ জায়গা করে নিতে সক্ষম হয়েছে। বিনোদনের পাশাপাশি সামাজিক বার্তা ও সাহিত্যপ্রেমের আহ্বান থাকায় নাটকটি দীর্ঘদিন আলোচনায় থাকবে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!