প্রকাশিত: আগস্ট ২৮, ২০২৬, ০৫:১০ পিএম
ভারতের উত্তর প্রদেশের শামলি জেলায় জিম থেকে বের হওয়ার পর গুলিতে নিহত হয়েছেন জনপ্রিয় হরিয়ানভি গায়ক ও অঙ্কিত বালিয়ান। বুধবার সন্ধ্যায় নিজের গাড়ির দিকে যাওয়ার সময় কয়েকজন অস্ত্রধারী তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। পুরো হামলার দৃশ্য আশপাশের নজরদারি ক্যামেরায় ধরা পড়েছে। মাত্র কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে ঘটে যাওয়া এই হত্যাকাণ্ডে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে এলাকায়।
পুলিশের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, অঙ্কিত ওই দিন সন্ধ্যার দিকে জিম থেকে বের হন। তার হাতে ছিল ব্যাগ। এরপর তিনি গাড়ির দিকে এগিয়ে যাচ্ছিলেন। এ সময় কয়েকজন ব্যক্তি তাকে অনুসরণ করতে থাকে। গাড়ির কাছে পৌঁছানোর আগেই হামলাকারীরা তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে।
নজরদারি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যায়, হামলাকারীরা অঙ্কিতকে অনুসরণ করে কিছু দূর এগিয়ে আসে। এরপর আচমকাই তার ওপর গুলি চালানো শুরু করে। প্রায় ২৫ সেকেন্ড ধরে গুলির শব্দ শোনা যায়। এ ঘটনায় আশপাশের মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। দোকান ও রাস্তার পাশে থাকা লোকজন নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যান।
হামলায় কতটি গুলি ছোড়া হয়েছে, তা নিয়ে বিভিন্ন তথ্য পাওয়া গেছে। পুলিশের প্রাথমিক তথ্যে প্রায় ১২ রাউন্ড গুলি ছোড়ার কথা বলা হলেও পরবর্তী কিছু প্রতিবেদনে ১৮ থেকে ২০ রাউন্ড গুলির কথাও উঠে এসেছে। ময়নাতদন্ত ও তদন্ত শেষে হামলার প্রকৃত ধরন সম্পর্কে আরও পরিষ্কার তথ্য পাওয়া যাবে।
গুরুতর আহত অবস্থায় অঙ্কিতকে দ্রুত স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নেওয়া হয়। কিন্তু চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ময়নাতদন্তের মাধ্যমে তার শরীরে কতটি গুলি লেগেছিল এবং কোন কোন আঘাতে তার মৃত্যু হয়েছে, তা নিশ্চিত হওয়ার কথা।
অঙ্কিত বালিয়ান শামলি জেলার বান্টি খেদা এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। হরিয়ানভি সংগীতের পাশাপাশি অভিনয় ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক কর্মকাণ্ডের কারণেও তার পরিচিতি ছিল। তার নিজস্ব ভিডিও চ্যানেলে কয়েক লাখ অনুসারী ছিল। আঞ্চলিক সংগীত অঙ্গনে অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি একটি উল্লেখযোগ্য অবস্থান তৈরি করেছিলেন।
তার গানের বিষয়বস্তুতে গ্রামীণ জীবন, দাপট, সংঘর্ষ, প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও অস্ত্রের প্রসঙ্গ প্রায়ই উঠে আসত। এসব গানের মধ্যে একটি গান তাকে ব্যাপক পরিচিতি এনে দেয়। তবে এখন তার মৃত্যুর সঙ্গে তার সংগীতের কিছু বিষয় নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
ঘটনার আরও একটি বিষয় তদন্তকারীদের নজরে এসেছে। মৃত্যুর অল্প সময় আগে অঙ্কিত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও প্রকাশ করেছিলেন। সেখানে তিনি নিজের নতুন গানের একটি অংশ পরিবেশন করেন। সেই গানের কথায় রাস্তায় হত্যার প্রসঙ্গ ছিল। পরে একই দিনে রাস্তার পাশে সশস্ত্র হামলায় তার মৃত্যু হওয়ায় ঘটনাটি নিয়ে নানা আলোচনা তৈরি হয়েছে। তবে এই মিলকে কেবল কাকতালীয় ঘটনা হিসেবে দেখা হবে, নাকি এর সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের কোনো যোগসূত্র রয়েছে—তা এখনো নিশ্চিত নয়।
এদিকে হত্যাকাণ্ডের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্ট ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে কুখ্যাত গোগি গোষ্ঠীর পক্ষ থেকে অঙ্কিতকে হত্যার দায় স্বীকারের দাবি করা হয়। ওই পোস্টে দাবি করা হয়েছে, অঙ্কিত প্রতিদ্বন্দ্বী একটি গোষ্ঠীর সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন এবং একটি পুরোনো ঘটনাকে কেন্দ্র করে গানও তৈরি করেছিলেন। তবে পোস্টটি সত্যিই সংশ্লিষ্ট গোষ্ঠীর কাছ থেকে এসেছে কি না এবং এর সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের বাস্তব কোনো সম্পর্ক আছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত করেনি পুলিশ।
তদন্তকারীরা অঙ্কিত হত্যার পেছনে সম্ভাব্য পুরোনো বিরোধ, ব্যক্তিগত শত্রুতা, অপরাধী গোষ্ঠীর সঙ্গে যোগাযোগ এবং অন্যান্য কারণ খতিয়ে দেখছেন। হামলাকারীরা হরিয়ানা সীমান্ত পেরিয়ে শামলিতে এসেছিল কি না, সেটিও তদন্তের আওতায় রয়েছে। ঘটনাস্থল হরিয়ানা সীমান্তের তুলনামূলক কাছাকাছি হওয়ায় বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।
হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় অঙ্কিতের পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে অজ্ঞাতপরিচয় কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। হামলাকারীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে একাধিক দল কাজ করছে। আশপাশের নজরদারি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করে হামলাকারীদের চলাচলের পথ, ব্যবহৃত যানবাহন এবং হামলার পর তাদের পালানোর দিক শনাক্তের চেষ্টা চলছে।
অঙ্কিত বালিয়ানের মৃত্যুতে তার পরিবার, অনুরাগী ও সংগীতাঙ্গনে শোক নেমে এসেছে। প্রকাশ্য রাস্তায় একজন পরিচিত শিল্পীকে পরিকল্পিতভাবে গুলি করে হত্যার ঘটনায় নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। এখন তদন্তের মূল লক্ষ্য—কারা হামলা চালিয়েছে, কেন অঙ্কিতকে লক্ষ্য করা হয়েছিল এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া দায় স্বীকারের দাবির সঙ্গে এই হত্যাকাণ্ডের আদৌ কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, তার উত্তর খুঁজে বের করা।



