রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

‘শত শত পুরুষের সামনে অন্তর্বাস পরে নাচতে হয়েছিল আমাকে’

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: আগস্ট ২৮, ২০২৬, ০৭:৪০ পিএম

‘শত শত পুরুষের সামনে অন্তর্বাস পরে নাচতে হয়েছিল আমাকে’

সংগৃহীত

বলিউড অভিনেত্রী দিয়া মির্জার অভিনয়জীবনে বেশ কিছু কাজ বিশেষভাবে স্মরণীয় হয়ে আছে। এর মধ্যে ২০০৪ সালে মুক্তি পাওয়া ‘তুমসা নেহি দেখা’ ছবির একটি গানের দৃশ্য তাঁর ক্যারিয়ারে আলাদা মাত্রা যোগ করেছিল। পর্দায় গানটি দর্শকের প্রশংসা পেলেও এর পেছনের শুটিং অভিজ্ঞতা ছিল অভিনেত্রীর জন্য বেশ কঠিন এবং একই সঙ্গে আত্মবিশ্বাস ফিরে পাওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।

সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে সেই সময়ের অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে দিয়া জানান, গানের দৃশ্য ধারণের জন্য তাঁকে শত শত মানুষের উপস্থিতিতে অত্যন্ত খোলামেলা পোশাকে নৃত্য করতে হয়েছিল। সেই সময় বিষয়টি নিয়ে শুরুতে তাঁর মধ্যে অস্বস্তি ও দ্বিধা কাজ করেছিল। নিজের শরীর নিয়েও তখন খুব বেশি আত্মবিশ্বাসী ছিলেন না তিনি।

দিয়ার ভাষ্য অনুযায়ী, শুটিংয়ের পরিবেশ নিরাপদ ও সহযোগিতাপূর্ণ হওয়ায় শেষ পর্যন্ত তাঁর অস্বস্তি অনেকটাই কেটে যায়। নৃত্যপরিচালক বৈভবী মার্চেন্টসহ পুরো দলের সহযোগিতা তাঁকে দৃশ্যটির জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত হতে সাহায্য করেছিল। ফলে কঠিন মনে হওয়া কাজটিই পরবর্তী সময়ে তাঁর কাছে আত্মবিশ্বাস অর্জনের একটি স্মরণীয় অভিজ্ঞতা হয়ে ওঠে।

অভিনেত্রী জানান, একজন শিল্পীর জন্য কোনো চরিত্রে অভিনয়ের সময় শুধু বাহ্যিক বিষয় নয়, চরিত্রটির অনুভূতি ও বক্তব্যও বোঝা গুরুত্বপূর্ণ। সেই উপলব্ধি থেকেই তিনি দৃশ্যটির প্রয়োজনকে গুরুত্ব দিয়েছিলেন। সেটে বিপুলসংখ্যক মানুষ উপস্থিত থাকলেও একটা পর্যায়ে বিষয়টি আর তাঁর কাছে বড় হয়ে ওঠেনি।

দিয়ার বেড়ে ওঠা ছিল তুলনামূলকভাবে রক্ষণশীল পরিবেশে। ফলে অল্প বয়সে নিজের শরীর ও ব্যক্তিত্ব নিয়ে তাঁর মধ্যে একধরনের সংকোচ ছিল। কিন্তু ওই ছবির কাজের সময় তিনি ধীরে ধীরে সেই সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে উঠতে শুরু করেন। বিশেষ করে আলোচিত গানটির শুটিং তাঁকে নিজের প্রতি নতুনভাবে আস্থা রাখতে শেখায়।

অভিনেত্রীর মতে, পর্দায় একটি দৃশ্য যতটা সহজ ও স্বাভাবিক মনে হয়, তার পেছনে একজন অভিনয়শিল্পীর জন্য ততটাই কঠিন প্রস্তুতি থাকতে পারে। নিজের অস্বস্তিকে জয় করে চরিত্রের প্রয়োজন অনুযায়ী কাজ করার অভিজ্ঞতা তাঁকে পেশাগতভাবেও আরও দৃঢ় করেছে।

দিয়া আরও বলেন, ওই কাজের আগে নিজের শরীর নিয়ে তিনি খুব বেশি আত্মবিশ্বাসী ছিলেন না। কিন্তু শুটিংয়ের অভিজ্ঞতা তাঁকে নিজের প্রতি ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি করতে সাহায্য করে। তাই বহু বছর পরও সেই গানের সঙ্গে তাঁর স্মৃতি কেবল অভিনয় বা নৃত্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; বরং এটি তাঁর ব্যক্তিগত আত্মবিশ্বাস ফিরে পাওয়ার সঙ্গেও জড়িয়ে আছে।

পর্দায় ইমরান হাশমির সঙ্গে দিয়ার সেই নৃত্যদৃশ্য দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছিল। তবে দর্শকের চোখে যে দৃশ্যটি ছিল আকর্ষণীয় বিনোদনের অংশ, দিয়ার কাছে সেটি ছিল নিজের সংকোচ কাটিয়ে ওঠার এক গুরুত্বপূর্ণ অভিজ্ঞতা।

অভিনেত্রীর কথায়, সেই সময়ের শুটিং তাঁকে বুঝতে সাহায্য করেছিল যে একজন অভিনয়শিল্পীর কাজ কেবল নিজের স্বাচ্ছন্দ্যের জায়গায় সীমাবদ্ধ থাকা নয়। চরিত্রের প্রয়োজন এবং দৃশ্যের উদ্দেশ্য উপলব্ধি করে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে কাজ করাও অভিনয়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও সেই অভিজ্ঞতা তাই দিয়ার কাছে বিশেষ হয়ে আছে। তাঁর কাছে এটি শুধুই একটি গানের দৃশ্য ধারণের ঘটনা নয়, বরং নিজের ভেতরের দ্বিধা ও সংকোচকে জয় করে আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠার একটি স্মরণীয় অধ্যায়।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!